প্রতীতি ঘোষ, বারাসত: মোর্চা নেতা বিমল গুরুং-এর সঙ্গে অন্যায় করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত রাজ্য সরকার। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

আরও পড়ুন- গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে আত্মসমর্পণের পথে গুরুং

বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে একটি পুরনো মামলার জন্য হাজিরা দিতে আসেন অধীর চৌধুরী। সেই সময়েই বিমল গুরুং সম্পর্কে বিস্ফোরক অভিযগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, “বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে এতদিন অন্যায় করা হয়েছে। তাঁকে রাজ্য সরকার মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।”

আরও পড়ুন- আরব আমিরশাহী থেকে সর্বোচ্চ সম্মান পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এদিনই বিমল গুরুং রাজ্যে ফিরতে পারেন বলে খবর মিলেছে সূত্র মারফৎ। জানা যাচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার তিনি আত্মসমর্পণ করতে চলেছেন। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা আত্মগোপনকারী সুপ্রিমো (একাংশ) এবং অপর শীর্ষ নেতা রোশন গিরি ও থাকবেন। লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে প্রচারে নামতে পারেন তিনি। একাধিক নাশকতামূলক মামলা রাজ্য পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে রেড কর্নার নোটিশ জারি করা হয়েছে গুরুংয়ের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ সময় ধরে দার্জিলিং থেকে বিছিন্ন তিনি। এর মধ্যেই আজ পাহাড়ে ফিরছেন বিমল গুরুং।

এই অবস্থায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর বিমল গুরুং-কে সমর্থনকারি বক্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদিন আদালত থেকে বেরনর সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অধীরবাবু বলেন, “বিমল গুরুং একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা হয়েছিলেন। পরে তাঁর সঙ্গে প্রতিহিংসার রাজনীতি করা হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “বিমল গুরুংয়ের পাহাড়ে ঢোকার অধিকার আছে। রাজ্য সরকার কীভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসায়, সেটা আমরা জানি।”

সূত্রের খবর, নেপাল সীমান্ত হয়ে পাহাড়ে ঢুকতে পারেন গোর্খা সুপ্রিমো। আবার গতকাল বুধবার মোর্চার তরফে এক ভিডিও বার্তায় দাবি করা হয়েছে যে বাগডোগরা হয়ে দার্জিলিংয়ের পথে যেতে পারেন বিমল গুরুং। পাহাড়ে যে এদিনই ফিরবেন বিমল গুরুং তা কার্যত সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই ভিডিও বার্তায়। ফলে নতুন করে গন্ডোগলের আশঙ্কায় প্রশাসনের তরফে সবরকম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে বিমলপন্থীরাও তাঁদের নেতাকে পাহাড়ে স্বাগত জানাতে তৈরি বলে জানা যাচ্ছে। অপর দিকে মোর্চার অপর অংশ অর্থাৎ বিনয় তামাংপন্থীরাও বিক্ষোভ দেখাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আজ পাহাড়ের রাজনীতি কোন দিকে যায় সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য-রাজনীতি।