ফাইল ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: রাজ্যের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলোকে ‘মানুষের খোঁয়াড়’ বলে কটাক্ষ করেন বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জানোয়ারকে রাখার জন্য যেন খোঁয়াড় বানানো হয়েছে।”

শনিবার বহরমপুর জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে করে তিনি বলেন, “কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে লোকে না পাচ্ছে খাবার না পাচ্ছে জল। মুখ্যমন্ত্রীর খাতায়-কলমে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চলছে। মানুষ কি পেল না পেল সে সব দেখার দরকার নেই’।

অধীর চৌধুরী আরও বলেন, ‘প্রতিটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের অবস্থা দুর্বিষহ। মুখ্যমন্ত্রী আপনি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোয়ারেন্টাইন করে দিচ্ছেন না জানিয়ে। ফলে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। আপনি মানুষের সঙ্গে আলোচনা করুন নিরাপদ জায়গা বেছে নিয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করুন।”

একাধিক জেলার বহু কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ বাড়ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। বহু পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, যে ঘরে তাঁদের থাকতে দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। ফ্যান থাকলেও চলে না, মশার উপদ্রবে ঠেকা যায় না।

তার উপর তিনদিন ধরে খাবার কিংবা জল কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ, ‘পেটের দায়ে বাইরে কাজ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু নিজের এলাকায় ফিরে যে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হবে, ভাবতে পারিনি। প্রশাসনের তরফে হয় খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক, নয়তো আমাদের বাড়ি ফেরত পাঠিয়ে দিক।’

এমনকি পূর্ব মেদিনীপুরে একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে এক শ্রমিককে বিষধর সাপে ছোবল দিয়েছে। এদিকে পরিযায়ী শ্রমিকদের এই অভিযোগ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি বলেছেন, “পরিযায়ী শ্রমিকরা জামাই আদর চাইছেন, তা দেওয়া সম্ভব নয়।”

পরিযায়ী শ্রমিকদের বাস ও ট্রেন ভাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যা বলছেন বলেও শনিবার অভিযোগ করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মানুষের কাছে ভুরিভুরি মিথ্যা কথা বলছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে পরিযায়ী শ্রমিককে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি নাকি বাসের ও ট্রেনের ভাড়া দিয়েছেন।”

এদিন অধীর চৌধুরী চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন এই কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে ট্রাকে চেপে, নিজের ঘটিবাটি বিক্রি করে বাসের ভাড়া দিয়ে রাজ্যে ফিরেছেন। যদি মুখ্যমন্ত্রীর সততা থাকে তাহলে তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে সকলের সামনে জানান যে তিনি বাসের এবং ট্রেনের ভাড়া দিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়েছেন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প