স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভোটের আগে সততার প্রতীক লিখে প্রচার করার জন্য পুজো কমিটিগুলোকে দাদন দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটিগুলোকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ভাষাতেই আক্রমন করলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।

করোনা আবহে আর্থিক অনটনের মুখে পড়ছে পুজো কমিটিগুলি। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে থেকে একাধিক ঘোষণা করেন মমতা। জানান, সব রেজিস্টার্ড পুজো কমিটিগুলিকে এবার ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেবে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, করোনা-পরিস্থিতিতে অনেকেই স্পনসর পাচ্ছেন না। বিজ্ঞাপনও ঠিক করে পাবেন না। তাই, পুজো করার জন্য এই টাকা দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে, রেজিস্টার্ড পুজোগুলির জন্য বেশকিছু করও মকুব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরকর, দমকলের ফি-ও। এমনকী, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কর মকুব করা হয়েছে। সিইএসসি ও রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের ক্ষেত্রে এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “এই টাকা পুজো বা উৎসবের জন্য দেওয়া হয়নি। ভোটের আগে সততার প্রতীক লিখে প্রচার করার জন্য পুজো কমিটিগুলোকে দাদন দেওয়া হয়েছে। এমন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আবহে এভাবে অর্থ দেওয়াকে ভালো চোখে দেখবে না। অনেক পুজো অল্প সামর্থ্যে পুজো করে, কিন্তু বড় পুজো কমিটিগুলোকে এই পরিমাণ অর্থ দেওয়া তেলা মাথায় তেল দেওয়া।”

পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান দেওয়ার জন্য এর আগেও সমালোচনা হয়েছে সরকারের। কিন্তু এ বার কোভিডের কারণে সরকারের রাজস্ব আদায় প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। তার মধ্যেও এই খয়রাতির নিয়ে সরব বিরোধীরা।

উল্লেখ্য, প্রথমবার পুজোও কমিটিগুলোকে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছর থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া শুরু হয়েছে।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেছেন, “পুজো হল সার্বজনীন। সেই পুজোকে সরকারি স্পনসরড পুজো বানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা যদি করতে হয়, তা হলে শুধু দুর্গাপুজোয় টাকা দিচ্ছেন কেন, ইদে, বড়দিনে, কালীপুজোয়, কার্ত্তিকপুজোতেও টাকা দেওয়া উচিত ছিল।

অধীর চৌধুরীর কথায়, “আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পেয়েছেন। গদি হারানোর ভয়। তাই সরকারের তথা জনগণের টাকা দিয়ে রাজনীতি করছেন। আশাকরি মানুষ সব বুঝতে পারছে।”

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।