স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুর্শিদাবাদের সালারে রেশন দোকান বন্ধ হুমকি দেওয়ায় রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী। খাদ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, ‘রেশন কি আপনার বাবার যে বন্ধ করে দেবেন’?

কম রেশন দেওয়ার অভিযোগে শনিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মুর্শিদাবাদের সালার। এদিন সকালে রেশন ডিলারের বাড়িতে হামলা চালায় ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসীরা। তাঁর বাড়ির সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে তারা।

রেশন নিয়ে অশান্তির এই ঘটনায় খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সরাসরি বিরোধী বিজেপি, কংগ্রেসের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “রেশন দোকানের বাইরে একটা চার্ট দেওয়া আছে। সালারে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে প্ল্যানড বিক্ষোভ হয়ছে। দুটি রাজনৈতিক দল, বিজেপি ও কংগ্রেস, এই নোংরা রাজনীতি করল। মানুষের খাবার নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে তারা।

দুজন ডিলারকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু সালারে যে ঘটনা ঘটেছে তা রাজনীতি। সালারে উসকানি দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতি সপ্তাহে ৫ কেজি করে চাল চেয়েছেন। সব রাজনৈতিক দলকে বলব খাদ্য নিয়ে এই নোংরা রাজনীতি করবেন না। বাংলায় বিজেপি কেন এই নোংরা রাজনীতি করছে? আর তাতে মদত দিচ্ছে কংগ্রেস। ” এরপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এধরনের ঘটনা ঘটলে রেশন দোকান বন্ধ রাখা হবে।

এর পাল্টা জবাব দিয়ে বহরমপুরের সাংসদ বলেছেন, “বাংলার মানুষ কেন খাদ‍্য পাচ্ছে না? সেই প্রশ্ন তুলেছি। গত ৪০ দিন ধরে এই প্রতিবাদ করছি। রেশনের নিয়ে দুর্নীতি চলছে। কেন্দ্র স্বর্ণ চাল পাঠিয়েছে। কিন্তু মাঝ রাস্তায় চাল পাল্টাপাল্টি হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দফতর খাদ‍্য দফতর। আপনার দফতরের অক্ষমতা আপনি স্বীকার করুন। রেশন দোকান আপনার বাবার নয়।

কংগ্রেসকে দোষ না দিয়ে খাদ‍্যমন্ত্রী নিজের চুরি করা সামলান। ঘাড়ে দোষ না চাপিয়ে চুরি আটকান। সরকারি দলের চাল চুরি করার অধিকার আছে আর বিরোধী দলের সাধারণ মানুষের হয়ে প্রতিবাদ করার অধিকার নেই? রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীর দফতরের দুর্নীতি সবাই জানে। সেজন্যই অফিসার বদল। খাদ্যমন্ত্রী সবেতেই ১০% কাটমানি খান। খাদ‍্যমন্ত্রীর আরেক নাম টেন পার্সেন্ট মন্ত্রী।”

উল্লেখ্য, গতকালই নবান্নের এক বৈঠকে ঠিক হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক নেতারা পরিষেবা দিতে বাধা দান করবে, সেখানে রেশন দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে। রেশন দেওয়া হবে না। কবে আবার রেশন দোকান খুলবে, পরিস্থিতি বুঝে সেই সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য।

এদিন, সালারের শিমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পুণশ্রী গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি ছিল, গত কয়েক দিন ধরেই স্থানীয় রেশন ডিলার হালিম শেখকে নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল তাঁদের একাংশের মধ্যে। অভিযোগ, ওই রেশন ডিলার লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকার নির্ধারিত খাদ্যশস্যের থেকে কম চাল-গম দিচ্ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ক্ষোভ নিয়েই কয়েকশো গ্রামবাসী এ দিন সকালে হালিম শেখের বাড়ির সামনে জমায়েত করেছিলেন। ক্রমে বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। উত্তেজিত জনতা হালিমের কাছে খাদ্যশস্য দাবি করে। এই নিয়ে হালিম এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে গ্রামবাসীদের বচসা শুরু হয়ে যায়। তার মধ্যেই উত্তেজিত জনতার একাংশ ইট ছুড়তে শুরু করে হালিমের বাড়ি লক্ষ্য করে। এরপরই বাড়ির সামনে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। প্রথমে তাঁদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছেন বিডিও। এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে ওই রেশন ডিলার।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প