বালুরঘাটঃ দ্রুত করিডর বাস্তবায়নের দাবিতে এবার সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী। বালুরঘাট থেকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মেঘালয়ের তুরা পর্যন্ত করিডরের দাবি বহুদিনের। এটি বাস্তবায়িত হলে বালুরঘাট থেকে মেঘালয় পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র আড়াই ঘন্টা। এখন যেখানে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় দুইদিন। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডরটি ঘোষিত হলে উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লবই ঘটবে না। একই সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসা বানিজ্যেরও বিকাশ ঘটবে।

সম্প্রতি বালুরঘাট থেকে জয়েন্ট মুভমেন্ট কমিটি ফর হিলি-তুরা ভায়া বাংলাদেশ করিডোর কমিটির সদস্যরা বহরমপুরে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে এই ব্যাপারে যাবতিয় নথিপত্র তুলে দিয়েছেন। কমিটির সদস্যদের তিনি আস্বস্ত করেন যে তিনি নিজে এই আন্দোলনে সামিল হয়ে দিল্লিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। যাতে অত্যন্ত উপযোগী এই করিডর দ্রুত বাস্তবায়িত করে কেন্দ্র সরকার।

বালুরঘাট থেকে মেঘালয়ের তুরা পর্যন্ত বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে করিডোরের দাবি বহু বছরের। ভারত সরকারের প্ল্যানিং কমিশনের তালিকায় এক নম্বরে এই করিডরের প্রস্তাব থাকলেও আজ অবধি তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় দুই বাংলা ও মেঘালয়ের মানুষ জয়েন্ট মুভমেন্ট নাম দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। করিডরটি চালু করা গেলে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে মেঘালয়ের দূরত্ব হবে মাত্র ৮৬ কিলোমিটার। বর্তমানে উত্তরপূর্ব ভারতের এই রাজ্যে পৌঁছতে সময় লাগে যেখানে দুইদিন।

ইতিমধ্যেই এই করিডোরের স্বপক্ষে যাবতীয় নথি চালাচালির পাশাপাশি তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চর্চাও চলছে বহুদিন থেকে। এলাকার উন্নয়নে প্রস্তাবিত এই করিডর যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ তা স্বীকার করেছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও। এবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা স্বয়ং এই আন্দোলনে সামিল হওয়ায় দ্রুত করিডর বাস্তবায়নের পথ আরও প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন দুই বাংলা ও মেঘালয়ের মানুষ।

এদিন করিডর কমিটির আহ্বায়ক নবকুমার দাস জানিয়েছেন যে অধীর চৌধুরী নিজেও উত্তরপূর্ব ভারতের উন্নয়ন ও দুই বাংলার মেলবন্ধনের ক্ষেত্রে এই করিডোরের কার্যকারিতার মেনে নিয়েছেন। শীঘ্রই তিনি দিল্লিতে গিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গডকড়ির সাথে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন। এই বিষয়ে টেলিফোনে লোকসভার বিরোধি দলনেতা অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন যে বালুরঘাট থেকে হিলি ও বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মেঘালয় পর্যন্ত এই করিডর আন্দোলন সম্পর্কে বহু আগে থেকেই তিনি অবগত ছিলেন। এটি বাস্তবায়িত হলে শুধু যোগাযীগের নতুন দিগন্তই খুলে যাবে না। মেঘালয় ও দুই বাংলার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রেও প্রভূত উন্নতি ঘটবে বলেও তিনি মনে করেন।