স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: জলঙ্গির ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী৷ তিনি বলেন, “ওই আন্দোলনে হিংসা ছিল না, উত্তেজনা ছিল না। কিন্তু তৃণমূলের মস্তানবাহিনী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।” অধীরের প্রশ্ন, নাগরিক সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলন করছেন, অথচ সাধারণ মানুষ আন্দোলন করলে তাদের উপর গুলি চলবে-এটা কেন? তিনি বলেন, প্রশাসনের এরকম নির্বিকার আচরণে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হল৷

সিএএ, এনআরসি এবং এনপিআরের বিরুদ্ধে গত ২০ ডিসেম্বর মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের ডাকে একটি মঞ্চটি তৈরি হয়। বুধবার সকালে জলঙ্গির সাহেবনগর এলাকায় ওই মঞ্চের বেশ কয়েকজন পথ অবরোধ করেন। সেই সময় শুরু হয় সংঘর্ষ।

অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় বোমা ছোড়া হয়। এর পর আচমকা কেউ গুলি চালিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে সানারুল বিশ্বাস (৬০) এবং সালাউদ্দি শেখ (১৭) নামে মৃত্যু হয় ২ জনের। আহত হয় বেশ কয়েকজন। তবে, কে বা কারা সাহেবনগর এলাকায় আচমকা গুলি চালাল, তা এখনও জানা যায়নি। নিহতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বন্‌ধ সমর্থনকারীদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায় কিছু দুষ্কৃতী।

তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আবু তাহের খান এ দিনের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘শারজিল ইমামের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ। কিন্তু সেখানে সিপিএম-কংগ্রেসের সঙ্গে মিম-পিএফআই-এর মতো মৌলবাদী শক্তি ঢুকে পড়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে।”

তৃণমূলের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বহরমপুরের সাংসদ৷ তিনি বলেন, “আমরা তো এই আন্দোলনকে সমর্থন করছি, তাহলে অশান্তি পাকাব কেন? তৃণমূলই এই ঘটনা ঘটিয়েছে৷”

তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ সেলিমও৷ তিনি বলেন, “এটা ভয়াবহ ঘটনা৷ অনভিপ্রেত ঘটনা৷ আমাদের রাজ্যে এরকমটা ঘটবে সেটা কখনও ভাবিনি৷ কোথাও যদি কোনও গন্ডগোল হয় সেটা পুলিশ-প্রশাসন দেখার দায়িত্ব না তৃণমূলের গুণ্ডাদের দায়িত্ব? আসলে দিলীপ ঘোষ যে কর্মসূচী ঘোষণা করছে তৃণমূল সেটা রূপায়ন করছে৷ কখনও সেটা তৃণমূলের গুণ্ডারা করছে কখনও প্রশাসন করছে৷”

এরপরই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে সেলিমের পরামর্শ, “কিছু ভাড়া করা লুঙ্গি পড়া লোক পাওয়া যায়, তাদের প্ররোচনায় পা দেবে না৷ দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে৷”