শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : ব্রিগেড থেকে সংযুক্ত মোর্চা ঘোষণা করলেন বাম-কংগ্রেস-ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের নেতৃত্ব । কিন্তু সেই ব্রিগেড মঞ্চেই সুর কেটে ছিল এই সংযুক্ত মোর্চার জোটের। সভা সমাপ্ত হওয়ার পর ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (ISF) নেতা আব্বাস সিদ্দিকী (Abbas Siddiqui) ও প্রদেশ কংগ্রেস (PCC) সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) যে ভাবে প্রতিক্রিয়া দিলেন তাতে সংযুক্তও মোর্চার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেলো।

রবিবার অধীর রঞ্জন চৌধুরী ব্রিগেডের শেষে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আব্বাসের কথার ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের পার্টি চলে না। আমাদের জোট বামেদের (Left) সঙ্গে। তাদের সঙ্গেই আমাদের আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। আমরা কী আসন পাবো তা এখনও আমরা জানিনা। কাজেই আমরা কী আসন পাবো তা না জেনে অন্যকে সেটা বলি কী করে? আবব্দুল মান্নানকে (Abdul Mannan) আব্বাসের সঙ্গে আলোচনার জন্যও ডেপুট করা আছে।”

এদিকে আব্বাস সিদ্দিকী এদিন ব্রিগেড শেষে আবার বলেন, “সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) ইচ্ছা আছে জোটের কিন্তু বাংলারর একজনের অঙ্গুলি হেলনে আটকে যাচ্ছে। আমরা ভিক্ষা চাই না, অংশীদারিত্ব চাই। কেউ বন্ধু ভেবে আসতে চাইলে সমর্থন করবো। আর বেশিদিন অপেক্ষা করা যাবে না।”

এদিন ব্রিগেডের সভায় যখন অধীর রঞ্জন চৌধুরী বক্তব্য রাখছেন তার কিছু পরেই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের নেতা আব্বাস সিদ্দিকী মঞ্চে ওঠেন। সঙ্গে সঙ্গে সিপিএম নেতা বিমান বসু (Biman Basu) ও মহম্মদ সেলিম( MD.Salim) আব্বাসকে অধীর চৌধুরীর পোডিয়ামের দিকে নিয়ে যান। তাতে অধীর রঞ্জন চৌধুরী তাঁর বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে বলেন আর বলবেন না। তবে বিমান বসু এবং মহম্মদ সেলিম অনুরোধ করে অধীরবাবুকে আবার বলতে রাজি করান।তবে অধীর রঞ্জন চৌধুরী পরে বলেন, “আব্বাস আসার সময় সভায় সবাই চিৎকার করে ওঠেন। আমি তাই মি আব্বাসকে বলি আপনি বলতে পারেন। সভার কোনও তাল কাটেনি।”

তবে অধীর-আব্বাস লড়াইয়ের সূত্রপাত আসন রফা নিয়ে। রবিবার ব্রিগেডের সভা মঞ্চ থেকে আব্বাস যখন আসন রফা নিয়ে সিপিএম-এর প্রশংসা করছেন আর কংগ্রেসের নাম মুখে না তুলে পাল্টা বলছেন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট করোও ভিক্ষা চায় না। তখনই বোঝা যাচ্ছিলো কংগ্রেসের সঙ্গে আব্বাসের সম্পর্কে তিক্ততা এসেছে। সেই বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো সভা শেষে অধীরবাবু ও অৱবাস সিদ্দিকীর পরস্পর বিরোধী মন্তব্যে। তবে আব্বাস এদিন মঞ্চে স্পষ্ট বলে দেন ৩০টি আসন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টকে সিপিএম দল দিয়েছে। তার জন্য তিনি বিমান বসু আর মহম্মদ সেলিমকে অভিনন্দন জানান।

প্রসঙ্গত সূর্য্যকান্ত মিশ্র এসব বুঝেই বলেছেন, “আসন নিয়ে যা হোক সবাই সবাই এক হয়ে, ঐক্যবদ্ধভাবে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।” বিমান বসুও এদিনের বৈঠক থেকে সব দ্বন্দ্ব ভুলে এক সঙ্গে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দেন। মহম্মদ সেলিম বলেন, “আমাদের সঙ্গে আব্বাসের আসন সমঝোতা হয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে হচ্ছে। আমরা সেই কাজকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু অধীর-আব্বাস দ্বন্দ্বে সংযুক্ত মোর্চার ভবিষৎ কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেলো।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।