স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। সেই কথাটাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানাতে পারেন তিনি।

রবিবার দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বৈঠকে কংগ্রেসের মুখ্য প্রতিনিধি হয়ে থাকবেন অধীর চৌধুরী। মোদিকে কয়েকদিন আগেই বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন তিনি। অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, বাংলার ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সেকথা তিনি বৈঠকে তুলবেন।

আরও পড়ুন: আন্দোলনেই আমার জন্ম, আমি ভয় পাই না: মমতা

ইতিমধ্যেই ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অধীর লিখেছেন, আপনি এখন ধমকানি আর চমকানি দিয়ে ডাক্তারদের কাজে যোগদান করতে বলছেন! সারা বাংলায় চিকিৎসা পরিষেবা কয়েকদিন ধরে সম্পূর্ণ অচল, কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙলো আপনার, ডাক্তার আর সাধারণ মানুষের মধ্যে সংঘাত তৈরি করতে আপনি উস্কানি শুরু করলেন ― খুবই দুর্ভাগ্যের।

সম্মান জানিয়ে ডাক্তারদের আলোচনায় ডাকুন। তাঁরা আপনার পার্টির পঞ্চায়েত মেম্বার নয়। রোগী ও ডাক্তারের মধ্যে সেবা দেওয়া আর সেবা নেওয়ার সম্পর্ক থাকা দরকার। ‘দিদি’র ‘চোখ রাঙানি’ সমস্যা আরও জটিল করবে, আলোচনা আলোচনা আর শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধানের রাস্তা বের করতে হবে।

উল্লেখ্য, এক জুনিয়র চিকিৎসককে মারধরের প্রতিবাদে কর্মবিরতি শুরু করেন এনআরএস-এর জুনিয়র ডাক্তাররা। সেই আন্দোলন এনআরএস-এর গণ্ডি টপকে শুধু কলকাতা বা এ রাজ্য নয়, ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশেই।

আরও পড়ুন: কলকাতায় ফের আক্রান্ত জুনিয়র ডাক্তার, ইমারজেন্সি বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত

বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে এসে আন্দোলনরত চিকিৎসকের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দ্রুত কাজে যোগ দিতে হবে। নচেৎ কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য কার্যত ঘি ঢালে আন্দোলনের আগুনে। শহরের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরেই ন্যাশনাল মেডিক্যাল, আর জি কর, এন আর এস এবং কলকাতা মেডিক্যালে আন্দোলন আরও জোরদার করেন জুনিয়র ডাক্তারেরা।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চার জন অধ্যক্ষ এবং ১৭০ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। নজিরবিহীন এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির জন্য রাজ্য প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়ী করছে চিকিৎসক মহল। সরাসরি না বললেও ইস্তফার কারণ হিসেবে প্রশাসনিক অসহযোগিতাকেই কারণ হিসাবে দেখিয়েছেন চিকিৎসকরা।