স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: মুখ্যমন্ত্রীর বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট শুরুর মুখে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ঘনিষ্ট শিল্পপতি আদানি ও আম্বানিদের কাঠগোড়ায় তুললেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক৷

আরও পড়ুন: নিউটাউনে শুরু হচ্ছে বিশ্ববঙ্গ সম্মেলন

মন্ত্রি মলয় বাবুর অভিযোগ, ‘‘ব্যাংক এখন আর নিরাপদ নয়। আগে ব্যাংকে টাকা রেখে সাধারণ মানুষ নিশ্চিত হতেন। এখন আবার এফআরডিআই চালু হতে চলেছে। সাধারণ মানুষ যাঁরা ৫০ লক্ষ টাকার কম টাকা রাখেন যত অসুবিধা তাদেরই। কিন্তু আদানি-আম্বানিদের এতে কোনও অসুবিধা নেই। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু হবে না। অথচ এর কোপ এসে পড়ছে আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের ওপর। এদের জন্যই সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপছে।’’ তাই এদের বিরুদ্ধে, এই কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সকলকে লড়াইয়ে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান শ্রমমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন: আজ শালবনিতে জিন্দল কারখানার উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী

রবিবার বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার ৩দিনের শ্রমিক মেলার উদ্বোধন করতে এসে এভাবেই আদানি, আম্বানিদেরই কাঠগড়ায় তুলেছেন মলয়বাবু৷ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুম্বাইয়ের এ্যাণ্টিলিয়ায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে মুকেশ আম্বানি এই রাজ্যে বিনিয়োগের কথা বলেছিলেন। আম্বানির পর গৌতম আদানি গোষ্ঠী ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত এবং তারপরে হিন্দুজা গোষ্ঠীর বিনিয়োগকে ঘিরে গোটা রাজ্য জুড়েই নতুন করে শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আগামী ১৬-১৭ জানুয়ারী কলকাতায় বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে দেশ বিদেশের নামীদামী শিল্পপতিরাও আসছেন। তারই মাঝে মোদী ঘনিষ্ট আদানি, হিন্দুজার সমালোচনা করে দলের অন্দরেই প্রশ্নের মুখে শ্রমমন্ত্রী৷

মলয়বাবু এদিন বলেন, ২০১১ সালের আগে পর্যন্ত রাজ্যের শ্রম দপ্তরের কাজ কি তাই বাংলার মানুষ জানত না। পরিবহণ কর্মী, নির্মাণ কর্মী আর সাসপাও নামে মাত্র তিনটি প্রকল্প চালু ছিল। আর এই প্রকল্পের সুবিধা তাঁরাই পেতেন যাঁরা বামফ্রণ্টের ঝাণ্ডা ধরতেন। কর্মীদের ঝাণ্ডা ধরিয়ে কারখানার গেটে গেটে দাঁড় করিয়ে টাকা তুলতেন নেতারা। শ্রম দপ্তরের এই সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অস্বচ্ছতা ছিল। তাঁর দাবি, পালা বদলের পর এই অস্বচ্ছতায় আমুল পরিবর্তন এনেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়৷

এদিন প্রাক্তন বাম সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাম আমলে অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৯ কোটি টাকা৷ আমরা ক্ষমতায় আসার পর সেই বরাদ্দ ১০০ গুণ বাড়িয়ে ১ হাজার ৮ কোটি টাকা করেছি। অস্বচ্ছতা দূর করতে, দালালরাজ খতম করতে সরাসরি সুবিধা প্রাপকদের ব্যাংক অ্যাকাউণ্টে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ৯২ লক্ষ অসংগঠিত শ্রমিক নথিভূক্ত হয়েছে। শীঘ্রই এই সংখ্যাটা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে৷ এরপরই বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, আদানি, আম্বানিদের মত বড় বড় শিল্পপতিদের সুবিধা দিতেই মানুষকে বিভ্রান্ত করছে মোদি সরকার। এদিন মলয়বাবু বর্ধমান সদর মহকুমার অন্তর্গত ২২০৩ জন বিভিন্ন শ্রমিকদের জন্য মোট ২, ২৬, ৯৯, ৪৭১টাকার সুবিধা প্রদান করেন। এছাড়াও ৪৯৮জনের হাতে পাশবই তুলে দেওয়া হয়। সাধারণ মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩০ জনের হাতে ১৫,২৭,৪০৫ টাকা, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩জনকে ৫ লক্ষ টাকা, শিক্ষাখাতে স্নাতক ৭ জনের হাতে ৪২ হাজার টাকা, স্নাতকোত্তর কোর্সের জন্য ৩ জনের হাতে ২৮ হাজার টাকা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার জন্য ২ জনের হাতে ৬০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। মেলা চলবে ১৬ জানুয়ারী পর্যন্ত।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক তথা বিডিএ-র চেয়ারম্যান রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় অসংগঠিত শব্দটি পরিবর্তনের দাবি জানান মলয় ঘটকের কাছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই এই অসংগঠিত শব্দটি বাদ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এখন আর এই শ্রমিকরা কেউ অসংগঠিত নয়, বরং অনেক বেশি সংগঠিতও।

আরও পড়ুন: হলদিয়া মেলায় আসছেন বলি-টলির একঝাঁক শিল্পী

জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, এতদিন বামেরা শ্রম আইন মানেনি। ন্যূনতম বেতন কাঠামোও মানেনি। এখন যে কোনেও সংস্থায় শ্রমিকদের ন্যূনতম ৭ হাজার টাকার কম বেতন দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মেলা নিয়েও এদিন রীতিমত সমালোচনায় মুখর হন তিনি। তিনি বলেন, এখন অনেকের চুলকানি হয়েছে। তারা সমালোচনা করছেন এই সরকার মেলা আর খেলা নিয়েই চলছে। কিন্তু এই সরকার এই ৬ বছরে যা করেছে কেউ করেনি।