পাটনা: বিহারে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷ অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিনড্রোমে (এইএস) বা ‘চমকি বুখারে’ আক্রান্ত হয়ে ১৫ দিনে ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷ কেবলমাত্র মুজফফরপুর জেলা থেকেই ১১৭ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে৷ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বৈশালীতে ১২ জন, বেগুসরাইয়ে ৬ জন, সমস্তিপুরে ৫ জন এবং মোতিহারি ও পাটনায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ মৃত শিশুদের বয়স ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে৷

বিহার সরকার শুরু থেকেই এই রোগকে এনসেফেলাইটিস বলে মানতে নারাজ৷ বিহারের স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের মতে রক্তে শর্করা অতিরিক্ত পরিমাণে কমে যাওয়ার দরুনই এই মৃত্যু৷ ভিলেন হিসাবে উঠে আসছে লিচু ফলের নাম৷ অপুষ্টির শিকার শিশুরা খালি পেটে লিচু খেয়ে নিয়েছে৷ তারপরেই জ্বরে ভোগা শুরু৷ এরপর ধীরে ধীরে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যাচ্ছে৷ দেরি করে হাসপাতালে নিয়ে আসায় আর চিকিৎসার সুযোগ তারা পাচ্ছে না৷ বাবা-মায়েদের মধ্যে সচেতনার অভাব যে রয়েছে তা মেনে নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দীপক কুমার৷

স্বাস্থ্যদফতরের কর্তাদের কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়ে তিনি জানান, শিশুরা যাতে কোনও মতেই রাতে খালি পেটে ঘুমাতে না যায় সেই নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা হবে৷ অঙ্গনওয়ারি কর্মীদের মাধ্যমে বাবা-মায়েদের সচেতনতার পাঠ পড়ানো হবে৷ প্রতিটি বাড়িতে ওআরএস বিলি করার কথা জানানো হয়েছে৷ তাঁরা বাবা-মায়েদের বোঝাবেন, কেন বাচ্চাদের ওআরএস খাওয়ানো জরুরি৷ এছাড়া কোনও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ ঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা গেলে চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে৷

এদিকে বিরোধীদের চাপের মুখে পড়ে গতকাল মুজফফরপুরের শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার৷ সঙ্গে ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী৷ হাসপাতালে আসার পরই বাবা-মায়েদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন দু’জনে৷ ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান৷ দু’সপ্তাহ বাদে নীতীশের আসার সময় হল এমন কথাও উড়ে আসে৷ রোগীর পরিজনদের বিক্ষোভ কোনওরকমে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ৷

নীতীশ সোজা চলে যান আইসিইউতে৷ আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মায়েদের সঙ্গে কথা বলেন৷ জানতে চান, চিকিৎসা ঠিক মতো হচ্ছে কিনা৷ ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাসপাতালে আছে কিনা তা ডাক্তারদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পরে মুখ্যসচিব জানান, দ্বারভাঙ্গা ও পাটনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে কয়েকজন চিকিৎসকে শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পাশাপাশি হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশও দেন৷