কলকাতা: আমফানের দাপটে এখনো বাংলার বেশ কিছু প্রান্তিক অঞ্চল রীতিমতো বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। এই জায়গাগুলিতে সামান্য ঝড় বৃষ্টিতে জল জমে যায়, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। আরা আমফানের মতো দাপুটে ঘূর্ণিঝড়ে এই এলাকা গুলির অবস্থা খুবই শোচনীয়।

এই এলাকা গুলির মধ্যে অন্যতম হলো উত্তর ২৪ পরগনার গ্রাম হালদা। আমফানের ফলে এই এলাকার মানুষেরা ঘরহারা হয়েছেন। ভেসে গিয়েছে যা কিছু ছিল, তার প্রায় অধিকাংশই। এবার সেই বিধ্বস্ত অঞ্চলে গিয়ে ত্রাণ দিয়ে এলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কায় এই গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা নষ্ট হয়েছে অনেকটাই। বহু মানুষ ঘর হারিয়ে রাস্তায় ত্রিপল এর নীচে দিন কাটাচ্ছে। আর সেরকমই একটি জায়গায় বৃষ্টি মাথায় নিয়েই পৌঁছে গেলেন স্বস্তিকা ত্রান দিতে। ঝড়ের দাপটে শিশুদের খাতা বই পেন্সিল সমস্ত নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই শিশুদের হাতে খাতা বই পেন্সিল তুলে দেন অভিনেত্রী।

মহিলাদের স্বাস্থ্যসচেতনতার কথা মাথায় রেখে তাঁদের হাতে তুলে দেন স্যানিটারি ন্যাপকিন। স্বস্তিকা পুরোটা একটি ভিডিওর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন আমফান পরবর্তী সময় এখানে মানুষ গলা অবধি জল পেরিয়ে দিন কাটাচ্ছিল।

ভিডিও-য় দেখা যায় মানুষ কিভাবে একটি ঝড়ের মধ্যে ত্রিপল খাটিয়ে বসবাস করছে। স্বস্তিকা এঁদের সঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটান। এলাকার মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের সুবিধা ও অসুবিধার কথা শোনেন। এক গ্রামবাসী জানালেন তাঁর ঘর সম্পূর্ণ ভেসে চলে গিয়েছে। এখন ত্রিপলের নীচে কোনো রকমে মাথা গুঁজে রয়েছেন তাঁরা। আর বর্ষা যেহেতু এখন তাই বৃষ্টি-কাদায় এখনো সমস্যা রয়ে গিয়েছে।

সন্ধি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে উদ্যোগ নিয়ে স্বস্তিকা পৌঁছেছেন উত্তর ২৪ পরগনার গ্রাম হালদায়। স্বস্তিকা অন্যান্যদেরও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

এই গ্রামের মানুষ যে এখনো সমস্যায় দিন কাটাচ্ছেন এবং তাঁদের এখনও সাহায্যের দরকার সে কথাই স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। প্রত্যেকদিন লড়াই করে চলা এই মানুষগুলো যাতে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরতে পারে শীঘ্রই সেই জন্যই প্রত্যেককে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করেছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব