বেঙ্গালুরু: বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন কর্নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী চন্দনা। পাঁচ বছর সম্পর্ক থাকার পর বিয়ে করতে রাজি হননি প্রেমিক। এর জন্যই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন চন্দনা। বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার সময় ভিডিও করেন অভিনেত্রী। আর সেই ভিডিও সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেন প্রেমিক ও প্রেমিকের পরিবারের কাছে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, গত ২৮ মে আত্মঘাতী হন চন্দনা। কিন্তু সেই খবর প্রকাশ্যে আসে ১ জুন।

জানা যাচ্ছে, প্রেমিক দীনেশের সঙ্গে টানা পাঁচ বছর সম্পর্কে ছিলেন কন্নড় অভিনেত্রী চন্দনা। দুজনের পরিবারও সম্পর্কের কথা স্পষ্ট ভাবেই জানত। দীনেশ তাঁকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। চন্দনার পরিবারকে বিয়ের কথা আগে তুলতে বলেছিলেন দীনেশ। কিন্তু যখন চন্দনা ও তাঁর পরিবার দীনেশের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান, তখন তাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।

এমনকি দীনেশের পরিবার চন্দনার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে। চন্দনা সেই আত্মঘাতী ভিডিওতে এও বলেছেন, দীনেশ একবার বলেছিলেন তিনি মরে গেলে খুব ভালো হয়। আর তাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তিনি। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে দীনেশকেই দায়ী করে গিয়েছেন চন্দনা। এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, দীনেশ চন্দনার থেকে বেশ কিছু টাকাও নিয়েছিলেন। এবং গত কয়েক মাস ধরে তাঁকে এড়িয়ে চলছিলেন দীনেশ। আগেও দীনেশ নাকি চন্দনাকে প্রতারণা করেছেন।

অন্য মহিলাদের সঙ্গেও সম্পর্ক রেখেছেন। চন্দনার পরিবারও দীনেশের এই বিষয়গুলি জানত। কিন্তু চন্দনা এতই ভালোবাসতেন যে দীনেশকে বিয়ের কথা প্রায়ই জিজ্ঞাসা করতেন। আর দীনেশ শুধুই এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতেন। কিন্তু কফিনের শেষ পেরেক টা ছিল দীনেশের পরিবারের খারাপ ব্যবহার। তাঁরা বলেছিলেন অন্য কোথাও দীনেশের বিয়ে দেবেন। এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি অভিনেত্রী চন্দনা।

ভিডিও তিনি বলেছেন ৫ বছর ধরে শুধুই তাকে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্নভাবে। আর তাই এই কঠিন পদক্ষেপ বেছে নিয়েছেন তিনি। ভিডিওটি দীনেশের কাছে পৌঁছানোর পরে তিনি চন্দনাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে চন্দনার মৃত্যু হয়ে গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, চন্দনা মৃত এই খবর জেনেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান দীনেশ। দীনেশ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। কন্নড় অভিনেত্রীকে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত। তবে দীনেশ এখন পলাতক বলেই জানা যাচ্ছে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প