মুম্বই: একসময় সুশান্ত সিং রাজপুত এবং তাঁর প্রাক্তন বান্ধবী অঙ্কিতা লোখান্ডে একসঙ্গে থাকতেন। তাঁদের প্রতিবেশী ছিলেন একজন অভিনেত্রী যিনি সম্প্রতি এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন। বলিউডের সঙ্গে কিভাবে মাদক যোগ রয়েছে সেই ব্যাপারে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সেই অভিনেত্রী বলেছেন তিনি নিজেও একবার এক মাদক পাচারকারীর পাল্লায় পড়েছিলেন। কিন্তু সৌভাগ্যবশত তিনি সেই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন।

তিনি মনে করেন বলিউডের সঙ্গে এই মাদক চক্র যেভাবে জড়িয়ে আছে তার জন্যই সুশান্তের এই অল্প বয়সে এমন পরিণতি হলো। অভিনেত্রীর কথায়, “সুশান্তের বিষয়টি জেনে আমার খুবই খারাপ লেগেছিল। মনে হচ্ছিল আমার অতীতটা সামনে এসে ধরা দিয়েছে। রিয়া চক্রবর্তীকে মধুচক্রের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। এটা একটা খেলা। রিয়া সুশান্তকে ব্যবহার করেছে।”

সে অভিনেত্রী নিজের অতীতের কথা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি যখন প্রথম অভিনয়ের জগতে পা রাখলেন সেই সময়ের কথা মনে করে তিনি বলছেন, “সেই সময় আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন। সাদা রংয়ের একটি পাউডার টেবিলের ওপর রাখা ছিল। আমি দেখে বলেছিলাম,’ও মাই গড, ড্রাগ!’ তখন আমায় জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আমি কি আলিবাগ এর বাসিন্দা? অর্থাৎ কেউ যদি ড্রাগ না নেয় ধরে নেওয়া হয় সে গ্রাম থেকে এসেছে। ড্রাগের সঙ্গে এরকমই সম্পর্ক এই ইন্ডাস্ট্রির।”

তিনি আরো বলছেন, “বড় পার্টি গুলিতে অনেকটা করে ড্রাগ নেওয়া হয়। একজন থাকে বিক্রেতা, আর একজন থাকে ড্রাগ সরবরাহকারী। কিন্তু এই চক্রের যে মূল মাথা তার সঙ্গে দেখা করা যাক যায় না। কিন্তু ড্রাগ যাতে আপনার কাছে পৌঁছে যায় সেই ব্যবস্থা থাকে।”

এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন সুশান্তকে স্লো পয়জন করা হয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলছেন যে তিনি যদি সঠিক সময় মাদক ছেড়ে না দিতেন তাহলে তিনি ও হয়তো মারা যেতেন। অভিনেত্রী বলছেন, “এই ড্রাগস চক্রের জন্য সুশান্তের মৃত্যু হল। রিয়া চক্রবর্তীকে মধুচক্রের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। এটা একটা ট্রেন্ড। এভাবেই চলতে হবে নাহলে ইন্ডাস্ট্রিতে মানুষ পাত্তা দেবে না। এই ইন্ডাস্ট্রিতে মাদক নেওয়া একটা বিরাট বড় স্টেটাস। আমি ভুক্তভোগী। আর আমার জীবনে সেটাই ছিল সবচেয়ে দুঃসময়।”

প্রসঙ্গত ১৪ জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়ার সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ। এই মুহূর্তে তাঁর মৃত্যুর তদন্ত করছে সিবিআই, এনসিবি, এবং ইডি। রিয়া চক্রবর্তী কে গ্রেফতার করেছে এনসিবি। এছাড়াও গ্রেফতার হয়েছেন রিয়ার ভাই সৌভিক।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।