সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তুলসী চক্রবর্তী। নামটা শুনলেই প্রথমেই মনে পড়ে পরশ পাথর ছবির কথা। সে ছবিতে তিনিই তো হিরঅ। স্বপ্নেও ভাবেননি এমনটা হতে পারে। সৌজন্যে সত্যজিত রায়। অভিনয় জীবনে ৩৫০-এর কাছাকাছি বাংলা ছবিতে অভিনয় করেও কোথাও যেন ব্রাত্য তিনি। বিগত বছর তিনেক তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মাধ্যমে আলোচনা হয়। এর চেয়ে বেশি কিছু না। তাঁর হাওড়ার কৈলাস বোস লেনের বাড়িরও জীর্ণ দশা। এলাকার মানুষের প্রচেষ্টায় এলাকায় আজও প্রাণবন্ত বিখ্যাত অভিনেতা।

এই বাড়ি ও তুলসী চক্রবর্তীর স্মৃতি রক্ষা করতে বিগত বেশ কিছু বছর ধরে চেষ্টা করছে অভিজিৎ সরকার। তিনি জানিয়েছেন , ‘আমি শুধু একা নয় এলাকার মানুষও আমাকে এই কাজে সাহায্য করে। আমরা চেষ্টা করি বিখ্যাত অভিনেতার স্মৃতিটা থাক। একটা আবক্ষ মূর্তির দাবী জানিয়েছি, একটা সংগ্রহশালার আবেদন জানিয়েছি। অনেকে কথা বলা হয়েছিল। কিছু হয়নি। শুধু বাড়ির সংলগ্ন রাস্তা ওইটুকু পরিস্কার করে দেওয়া হয়েছে।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘বাড়িটি একেবারে ভেঙে যায়নি। তবে অনেক পুরনো হয়ে গেলে দেখার কেউ না থাকলে যা হয় তাই হচ্ছে। এটা ঠিক করার জন্য যদি কেউ উদ্যোগ নেয় তাহলে ভালো হয়। আমরা আজ ওনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে ওনার ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছি। ওনাকে নিয়ে ছোট প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি সঙ্গে একটা অনুষ্ঠানও হবে। আমাদের এলাকাবাসী হিসাবে যতটা করার ততটা করছি।’

অভিজিৎ সরকার আরও জানিয়েছেন , ‘এমন ভাবে যদি বাড়ি পরে থাকে তাহলে যে কোনও সময় অধিগ্রহণ হতেই পারে। আমরা এখনও বাড়িটার সঙ্গে এমন কিছু না হয় তা চেষ্টা করছি কিন্তু এমনভাবে থাকলে অমূল্য সম্পদ কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে’। এলাকাবাসীর আশঙ্কা এমনটাই।

২ নম্বর কৈলাস বোস থার্ড বাই লেনের একদা বাসিন্দা ছিলেন বাংলার সিনেমা জগতের কিংবদন্তি তুলসী চক্রবর্তী। আড়াই ফুট চওড়া গলিটার নাম কৈলাস বোস থার্ড বাই লেন। ছোট্ট গলির শেষপ্রান্তে ভাঙাচোরা টিনের চালের দেড়তলা বাড়ি। দরজায় ঝুলছে মরচে পড়া পুরোনো তালা। বছর দশেক হল এই বাড়িতে কোনও বাসিন্দা নেই। কার্যত পরিত্যক্ত। প্রায় ৬০ বছর আগে তিনি মারা যাওয়ার পর প্রবল আর্থিক অনটন নিয়ে এই বাড়িতেই কাটিয়েছিলেন তাঁর বিধবা স্ত্রী ঊষারানি দেবী। তিনিও প্রয়াত হয়েছেন বছর দশেক। তুলসী চক্রবর্তী নিঃসন্তান। তাই বাড়ির দাবিদারও কার্যত কেউ নেই। এলাকার মানুষই আগলে রেখেছেন এই বাড়ি। তুলসীবাবুর বাড়ি সংরক্ষণ এখনও করতে না পারলেও তাঁর বাড়ির লাগোয়া মাঠটিকে তুলসী চক্রবর্তী স্মারক উদ্যান করে দিয়েছে হাওড়া পুরসভা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।