কলকাতা: দিন কয়েক আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছে প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা। এই ব্যক্তি বাংলা ফিল্ম জগতের সবথেকে বড় প্রযোজকই নয়, সর্বময় কর্তা বললেও ভুল হবে না। যে এককথায় বলতেই পারে, “আই অ্যাম শ্রীকান্ত মোহতা, আই অ্যাম দ্যা ইন্ডাস্ট্রি।”

যদিও এই গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে চলচ্চিত্র জগতের কেউ মুখ খোলেননি। শ্রীকান্তের বিরোধী শিবিরের লোকেরাও মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। একাধিকবার ফোন করলেও উত্তর মেলেনি। অনেকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আগাম শর্ত দিয়ে রেখেছিলেন, ‘শ্রীকান্ত নিয়ে কোনও প্রশ্ন করা চলবে না।’

এই অবস্থায় শুক্রবারে বন্ধু শ্রীকান্ত মোহতাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিমত তুলে ধরেছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। শ্রীকান্ত মোহতার সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলা চলচ্চিত্র জগতে শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ করেছেন রুদ্র। একই সঙ্গে ভেঙ্কটেশের সমসাময়িক প্রযোজকদের নিয়ে ব্যঙ্গও করেছেন পর্দার চ্যাপলিন।

নিজের ফেসবুকের ওয়ালে শ্রীকান্ত মোহতার গ্রেফতার নিয়ে সুদীর্ঘ পোস্ট করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। সেখানেই এই ঘটনা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, “জয় শ্রী রাম।” সমগ্র ঘটনা আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে অভিযোগ করে বন্ধু শ্রীকান্তের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সমালোচনা করেছেন, “শ্রীকান্তের সমালোচকদেরকেও।”

রুদ্রনীল ঘোষের ফেসবুক পোস্ট:

হ্যাঁ শ্রীকান্ত মোহতা আমার বন্ধু। ঘন্টার পর ঘন্টা যার সাথে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের শিল্প সাহিত্য বাণিজ্য বিজ্ঞান দর্শন, সব নিয়ে আলোচনা করা যায়!তার সাথে বন্ধুত্ব করতে সবাই ভীড় করতে চায়।সে ভীড়ে ধান্দাবাজ থেকে উদাসীন সব্বাই আছে! ৯০এর দশকে যখন পান পরাগ চেবানো অবাংগালী প্রোডিউসাররা শুধুমাত্র চকচকে হিরোইন আর কালো টাকা সাদা করার জন্য সিনেমায় পয়সা ওড়াত, তখন এই ছেলেটিই সিস্টেম বদলের কথা একা ভাবত! যার ফলাফল আজকের অনেক উন্নতমানের বাংলা সিনেমা।ছেলেটা প্রমাণ দিয়েছিল সঠিক গল্প আর সঠিক বাজেট মানুষকে সিনেমা হলে ফেরাবেই। আজ যা প্রমাণিত। “সাথী,চীরদিনই তুমি যে আমার থেকে আধুনিক অটোগ্রাফ, সিনেমাওয়ালা, ব্যোমকেশ, রাজকাহিনী ” ইত্যাদি পর পর তার প্রতিফলন।এই চুপচাপ কঠিন লড়াইটা ছিল একার। সফলতা যেমন সম্মান আনে।তেমন আনে শত্রু। যে ফার্স্ট হয় তাকে সইতে পারে কজন? ব্যবসায় তো এসব চলেই নাকি!

আর আমরা ইভেন্ট খুঁজি বক্তব্য রাখার জন্য! ব্যাস, আমরা পেয়ে গেছি। যার জন্য আজ ভাল সিনেমা দেখতে পাচ্ছি তার সব গুন আর অবদান ভুলে, না বুঝেই নেমে পড়লাম সমালোচনার ময়দানে!!

ওরা ঠিক যা চেয়েছিল তাই হচ্ছে পাবলিকের মনে!! “দেখেছ এও দুনম্বরি..ছিঃ!!” ব্যাস!

আমি পোস্ট লিখছি আমাদের বিপন্নতা নিয়ে। ইন্ডাস্ট্রির চরম ক্ষতি আঁচ করে। আমাদের হাজার হাজার জীবিকার কথা ভেবে।ইচ্ছা থাকেও আমার মত বাকীরাও কেন কিছু লিখতে পারছেন না আমি জানি। কাল যদি তাকে যে কোন অজুহাতে সিবিআই ডাকে,গ্রেফতার করে..প্রেস্টিজ নষ্ট করে…. স্রেফ এই ভয়ে!!! বাড়িতে সামান্য পুলিশ এলেই বাংগালীর প্রেস্টিজ চলে যায়।আর এ তো সিবিআই! তার ওপর ২৫ কোটির গল্প!!!! ৯০% মানুষ জানেই না সিবিআই কেন কাকে ডাকে বা গ্রেফতার করে। জানেই না কে বা কারা সেই গ্রেফতারের লিস্ট তৈরি করে বলে ” ইমেজ নষ্ট কর,যাতে লোকটা আর পলিটিকাল ব্যাপারে আমার বিরোধী কে সাহায্য করতে না পারে”!!!!! শুধু এই টুকুই বলব। সামনে ২০১৯ লোকসভা ইলেকশান। শ্রীকান্ত মোহতার হাত ধরে শিল্পীরা যাতে ভয় পেয়ে রাজনৈতিক প্রচারে না যেতে পারে তার নিখুঁত প্ল্যান এটা! তাই জিজ্ঞাসাবাদের নামে গ্রেপ্তার করো ভাই! “ওরা” যা চায় তা শ্রীকান্ত না মানলে গোঁজা হবে আরো জটীল ধারা, সিজ করা হবে অ্যাকাউন্ট,ক্ষতি করা হবে ব্যবসার,মন ভেংগে দিয়ে কোন ঠাসা করা হবে। সব সব হয় ভোটের রাজনীতিতে এদেশে! সংবিধানকে লাত্থি মেরে ধর্মনিরপেক্ষ দেশে নিষিদ্ধ হয় মুসলমানদের গরু খাওয়া। আর এ তো সামান্য ব্যাপার!যে সিবিআই নিজেই দূর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণিত, সে আজ নীতির বিচার করছে!!!!! খুব হাসি পাচ্ছে! খুব লজ্জা লাগছে!! জয় শ্রী রাম!!

আমি জানি এই লেখা পড়ে কেউ অবাক হবে, কেউ সহমত হবে, কেউ নিন্দেমন্দ করতে পারে আমায়। তাও কি করব! বন্ধু তো বন্ধুই হয়!বন্ধুর বিপদে পালিয়ে পিঠ বাঁচাতে শিখিনি।যতটা জানি বুঝি শেয়ার করলাম! আর এও জানি এ লেখা সিবিআই এর মালিকরাও পড়ে কিছু ছক কষতে পারেন!

ভাল হোক শ্রীকান্তের,সুস্থ হোক রাজনীতি!