মুম্বই- অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিকে ডিভোর্সের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আলিয়া সিদ্দিকি। আর তারপর থেকেই একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে তাঁদেরকে ঘিরে। বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসছেন নওয়াজ। আলিয়া জানিয়েছেন, তাদের বৈবাহিক জীবনে অশান্তির পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নওয়াজের দাদা। এমনকি তিনি নওয়াজের স্ত্রীকে মারধর করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে আরও বড় অভিযোগ আনলেন নওয়াজের ভাইঝি।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে সেই ভাইঝি অভিযোগ করেছেন, নওয়াজের দাদা অর্থাৎ নিজের কাকার কাছেই যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন তিনি। এই মর্মে জামিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভাইঝি।

তিনি বলছেন, “আমার যখন বয়স ৯, তখন আমার কাকা আমার যৌন হেনস্থা করেছিল। আমি থানায় সেই অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার দু বছর বয়স যখন তখনই আমার বাবা-মার ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার একজন সৎ মা ছিলেন। আমার উপরে খুব অত্যাচার হয়েছে। ছোটবেলায় বুঝতে পারিনি। ভেবেছিলাম এ তো আমার কাকা। কিন্তু বড় হয় বুঝতে পারি এই স্পর্শের মানে। সেখানে প্রচুর হিংসাও ছিল।’ এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী স্ত্রী আলিয়াও।

তিনি টুইট করেছেন, “এ তো সবে শুরু। ঈশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্য। অনেক কিছু এবার প্রকাশ্যে আসবে। বোঝা যাবে একমাত্র আমিই সমস্ত কিছু চুপচাপ সহ্য করিনি। দেখা যাক এই সত্যি গুলো কে কে টাকা দিয়ে কিনতে পারে। ” প্রসঙ্গত, আলিয়া জানিয়েছিলেন নওয়াজ চিৎকার-চেঁচামেচি করলেও গায়ে হাত তোলে নি কখনো। কিন্তু তার দাদা প্রায়ই মারধর করতো।

আলিয়ার কথায়, নওয়াজের পরিবারে এটা আগেও হয়েছে। বাড়ির বউদের উপর তারা নাকি এভাবেই অত্যাচার করে। যার জন্য তাদের পরিবারের উপর রয়েছে সাতটি মামলার দায়। আলিয়ার কথায়, নওয়াজউদ্দিন অভিনেতা হিসেবে বড় মাপের হলেও, মানুষ হিসেবে তা কেন হতে পারেননি! নিজের সন্তানদের সঙ্গে শেষ কবে দেখা করেছেন তাও হয়তো তার মনে নেই। আর তাই সন্তানদেরকে নিজের কাছেই রাখতে চান আলিয়া। আলিয়া বলছেন, “ওদের আমি বড় করেছি। তাই ওরা আমার কাছেই থাকবে।”

উল্লেখ্য, ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নওয়াজকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেননি। এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরপুর এর বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনএ রয়েছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প