মুম্বই- পর্দায় তাঁর অভিনয় দেখলে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। কিন্তু প্রথম থেকে শুরু করে এই জায়গায় আসার পথটা মোটেই মসৃণ ছিল না অভিনেতা মনোজ বাজপাই এর জন্য। বিহার থেকে যাত্রা শুরু করে কিভাবে মুম্বইয়ের বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন, সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম পোষ্টের মাধ্যমে তা জানালেন অভিনেতা। বয়স যখন মাত্র ৯, তখনই বুঝেছিলেন তিনি অভিনয়ের জন্যই জন্মেছেন।

তিনি বলছেন, “আমি একজন কৃষকের ছেলে। বিহারের একটি গ্রামে পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে আমি বড় হয়েছি। আমরা একটি ছোট্ট স্কুলে পড়তে যেতাম। আমরা খুব সাধারণ জীবন যাপন করতাম। কিন্তু যখনই শহরে যেতাম, আমরা বড় পর্দায় ছবি দেখতাম। অমিতাভ বচ্চনের ফ্যান ছিলাম আর তার মতোই হতে চাইতাম। ৯ বছর বয়সেই আমি জানতাম অভিনয়ই আমার ভবিষ্যৎ।”

কিন্তু স্বপ্ন গুলো সত্যি করা বেশ কঠিন ছিল তাঁর পক্ষে। তাই মনোজ বলছেন, স্বপ্ন সত্যি করার সামর্থ ছিল না আর তাই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ১৭ বছর বয়সেও আমি অন্য কিছুতে মন দিতে পারতাম না। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য রওনা দিলাম। সেখানে গিয়ে থিয়েটারে যোগ দিলাম কিন্তু আমার পরিবার জানতে পারেনি। অবশেষে আমি বাবাকে একটি চিঠি লিখলাম। তিনি রেগে যান নি। বরং আমাকে অতিরিক্ত ২০০ টাকা পাঠিয়ে ছিলেন।”

মনোজ আরো লিখছেন, “তখন বাড়ির লোকজন আমাকে কোনো কাজের যোগ্য বলে মনে করত না। আমি একজন বহিরাগত হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ইংরেজি, হিন্দি এবং ভোজপুরি ভালো করে শিখলাম। এনএসডি তে চেষ্টা করলাম। কিন্তু তিনবার রিজেক্টেড হলাম। আমি তখন আত্মহত্যা করবার মতন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। তাই বন্ধুরা আমার পাশেই ঘুমোতো। আমাকে কখনো একা রাখত না।”

এরপরে শেখর কাপুরের ছবি ব্যানডিট কুইন-এ সুযোগ পান মনোজ। সেই অভিজ্ঞতাও লিখেছেন তিনি, “সেই বছর একদিন আমি একটা চায়ের দোকানে ছিলাম। ভাঙাচোরা স্কুটার নিয়ে তিগমাংসু আমার খোঁজ করছিল। শেখর কাপুর তাঁর ছবি ব্যান্ডিট কুইন-এ আমাকে কাস্ট করতে চাইছিলেন। আমিও তখন ভাবলাম এখন আমার মুম্বই শিফট করে যাওয়া উচিত। প্রথমদিকে বিষয়টা খুবই কঠিন ছিল। আমি একটা বস্তিতে ঘর ভাড়া করলাম ৫ জন বন্ধুর সঙ্গে। কাজ খুঁজতাম। কিন্তু পেতাম না। একদিন এক সহ-পরিচালক আমার একটা ছবি ছিঁড়ে ফেলে দিল ।সেদিন আমি তিনটে কাজ হারিয়েছিলাম। এমনকি প্রথম শট দেওয়ার পরে গেট আউট বলে আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তথাকথিত নায়কসুলভ চেহারা নয় বলে তারা ভেবেছিল আমি কোনদিনই বড় পর্দায় ভালো কাজ করতে পারবো না।”

টানা চার বছর অভিনয় করার জন্য স্ট্রাগল করেছিলেন মনোজ বাজপাই। তিনি লিখছেন, “বাড়ি ভাড়া দিতে স্ট্রাগল করতে হয়েছিল আমাকে। এমনকি একটা ভড়া পাও কেও খুব দামী মনে হতো। কিন্তু আমার পেটের খিদে কখনো আমার সফল হতে চাওয়ার মনের খিদেকে নষ্ট করতে পারেনি। ৪ বছর টানা স্ট্রাগল করার পরে আমি মহেশ ভাটের একটি টিভি সিরিজে কাজ পাই। এপিসোড প্রতি আমি ১৫০০ টাকা করে পেতাম। সেই আমার প্রথম বাধাধরা আয়। সেখান থেকেই আমার অভিনয় চোখে পড়ে এবং আমি সত্যা ছবিতে প্রথম কাজ পাই। তারপরে একটি বাড়ি কিনি। তারপরে ৬৭টি ছবিতে অভিনয় করি। আর এখন আমি এখানে। এভাবেই হয়তো স্বপ্ন সত্যি হয়। তখন যে সব বাধা এসছিল সেগুলো আর খুব একটা গুরুত্ব পায় না। যেটা গুরুত্ব পেয়েছিল সেটা হলো এক ৯ বছরের বিহারী বালক স্বপ্ন দেখেছিল অভিনেতা হওয়ার।” মনোজ বাজপাই এর অভিনীত অন্যতম ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে সত্যা, কউন, গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর,শূল প্রভৃতি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ