সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: মনে আছে নিশ্চয় গুপি গাইন বাঘা বাইন ছবির জাদুকরকে ৷ কিংবা সোনার কেল্লার ছবিতে ফেলুদার সিধু জ্যাঠাকে ৷ ওই অভিনেতা পরিচিত হারিন চট্টোপাধ্যায় নামে, তাঁর পুরো নাম হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়৷ আরও অনেক জনপ্রিয় হিন্দি ও বাংলা ছবিতে দেখা মিলেছে তাঁর৷ কিন্তু বহুমুখি প্রতিভাধর এই মানুষটির সঙ্গে কমিউনিস্টদের সংযোগ ছিল নিবিড়৷

তিনি প্রথমযুগের আইপিটিএ-র সাংগঠনিক কাজে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। আর একেবারে ১৯৫১ সালে প্রথম লোকসভা নির্বাচনে কমিউনিস্টদের সমর্থনে তৎকালীন অবিভক্ত মাদ্রাজ প্রদেশের বিজয়ওয়ারা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচন হন৷ তিনি ১৯৫২থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত প্রথম লোকসভার সদস্য হয়েছিলেন৷ আজ তাঁর জন্মদিন৷

১৮৯৮ সালের ২ এপ্রিল হরীন্দ্রনাথের জন্ম হয়৷ তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যেরাও ছিলেন বিখ্যাত৷ বাবা অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ভারতের প্রথম ডি.এস.সি। বড় ভাই কমিউনিস্ট বিপ্লবী বীরেন চট্টোপাধ্যায় এবং দিদি হলেন কংগ্রেস নেত্রী ও কবি সরোজিনী নায়ডু। হরীন্দ্রনাথ বাল্যবিধবা কৃষ্ণা রাওকে বিয়ে করেন, পরবর্তীকালে যিনি সমাজসেবিকা কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায় নামে খ্যাত হয়েছিলেন।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন হরীন্দ্রনাথ। মাত্র ১০ বছর বয়েসে ক্ষুদিরামের ফাঁসির প্রেক্ষিতে ইংরেজি কবিতা ‘ডাইং পেট্রিয়ট’ রচনা করেন। উচ্চশিক্ষার জন্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, সেসময় কেম্ব্রিজে নিয়ম ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও মেধা প্রমানিত হলে ডক্টরেট ডিগ্রির গবেষনার অনুমতি দেওয়া হবে।

প্রতিভাবান হরীন্দ্রনাথ তার ‘ফিস্ট অফ ইয়ুথ’ কাব্যগ্রন্থের জন্যে গবেষনার সুযোগ পান। তার কবিতার প্রশংসা করেছিলেন স্বয়ং কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। হিন্দিতে লেখা তাঁর ছোটদের কবিতা আজও শিশুপাঠ্য। আবার তিনি অনুবাদও করেছিলেন গান কবিতা৷ বিখ্যাত ‘ইন্টারন্যাশনাল’ সংগীতের হিন্দি তর্জমা করেছিলেন, লিখেছিলেন সিনেমার প্রচুর গান। যৌবনে একটি সিনেমা পরিচালনা করেছিলেন তিনি। ব্রিটিশ শাসনের অবসানে গণনাট্য সংঘে তাঁর সৃষ্টি, “সূর্য অস্ত হো গয়া” আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে।

বম্বেতে থাকাকালীন চিত্রপরিচালক হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা হয় তাঁর সেই সুবাদেই বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন হরীন্দ্রনাথ। তাঁর অভিনীত হিন্দি ছবিগুলি হলো আশীর্বাদ, সাহেব বিবি অউর গুলাম, রাত অউর দিন, তেরে ঘর কে সামনে, চল মুরারী হিরো বননে, বাবুর্চি, গৃহপ্রবেশ ইত্যাদি। আজাদ নামে একটি ছবির প্রযোজনাও করেন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় গুপি গাইন বাঘা বাইন, সীমাবদ্ধ, সোনার কেল্লায় অভিনয় করেছেন। তিনি পদ্মভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত হন৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.