স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রয়াত বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল। ৬১ বছর বয়সে মঙ্গলবার ভোররাতে জীবনাবসান হয় এই তারকার। অভিনেতার অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে টলিউডে।

তাপস পালের প্রয়াণে সাংসদ তথা অভিনেতা দেব টুইটে শোকজ্ঞাপণ করে লিখেছেন, বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি যতদিন থাকবে ততদিন তাপস পাল বেঁচে থাকবেন৷

সংবাদ মাধ্যমে দেব বলেন, খুব খারাপ খবর৷ সকালবেলা বাবা এই খবরটা দিল। টালিগঞ্জ পাড়া থেকে লোকসভা, সব জায়গাতেই এই মানুষটার সাহচর্য পেয়েছি। ‘চ্যালেঞ্জ-২’, ‘মন মানে না’, ‘আই লাভ ইউ’ ছবিতে ওঁর সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। ওঁর ‘দাদার কীর্তি’, ‘গুরুদক্ষিণা’, ‘সাহেব’ সারা জীবন বাঙালির মনে থাকবে৷

এই অভিনয় জগতের বাইরেও ওঁকে দেখেছি, এক জন অসম্ভব ভাল মানুষ হিসেবে। প্রচুর মানুষের জন্য কাজ করেছেন। অনেক মানুষকেই ঢাক না পিটিয়েই সাহায্য করতে দেখেছি ওঁকে।তবে ওঁর শেষটা খুব খারাপ হল। এত ভাল মানুষ, এ রকম পরিণতি কেন হবে? হঠাৎ করেই কেন চলে যাবেন? এটা তো যাবার বয়স নয়। আমরা হয়তো আরও কাজ করতে পারতাম এক সঙ্গে। সেটা আর হল না। ভাল মানুষরা বড্ড তাড়াতাড়ি চলে যান।

নিজের কাজের জন্য অনেক বার অনেক জায়গা থেকে প্রশংসিত হয়েছেন তাপস পাল। একাধিক জায়গা থেকে পেয়েছেন সম্মান, সংবর্ধনা। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে কলাকার পুরস্কারে ভূষিত করেছে। ‘সাহেব’ ছবির জন্য পেয়েছেন ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।

টলিউডে যখন তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, সেই সময় অর্থাত ২০০৯ সালে রাজনীতিতে আসেন তাপস পাল। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন আলিপুর থেকে৷ পরে কৃষ্ণনগর থেকে সাংসদ৷ কিন্তু এই অভিনেতার শেষজীবন বিশেষ সুখের হল না। রাজনীতিতে থাকাকালীন আচমকাই রোজভ্যালি কাণ্ডের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যায় তাপস পালের। রোজভ্যালি কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর সিবিআই হেফাজতে নেয় তাপস পালকে। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভুনেশ্বরে। দীর্ঘদিন ভুবনেশ্বরের জেলে বন্দি ছিলেন তিনি।

শেষ বেলায় সহকর্মী, বন্ধুদের থেকে অনেকটাই দূরে একাকিত্বের মধ্যে কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। শরীর ভেঙে পড়েছিল। ১ ফেব্রুয়ারি আমেরিকায়, মেয়ের কাছে যাবেন বলে স্থির করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই তাঁকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভরতি হতে হয়। সেই হাসপাতালেই মঙ্গলবার তাঁর জীবনাবসান হয়। দেশের বাণিজ্যনগরীতে অকালেই ঝরে গেল সংস্কৃতিজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।