মুম্বই: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে বলিউড জুড়ে নেপোটিজম বা স্বজনপোষণ নিয়ে বিতর্কের ঝড় চলছে। সুশান্তের মৃত্যু যেন এই বিষয়টিকে খুব স্পষ্টভাবে সকলের সামনে এনে দিয়েছে। অনেকেরই দাবি সুশান্ত এই স্বজনপোষণের শিকার হয়েই অবসাদে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সে বিষয় এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কারণ প্রয়াত অভিনেতার ঘর থেকে কোন সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। সে বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পিছনে স্বজনপোষণই দায়ী এমনটা মনে করে রীতিমতো ঝড় চলছে নেপোটিজম নিয়ে। বলিউড দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একদিকে রয়েছেন স্টারকিডস। আরেকদিকে রয়েছেন কোনো গডফাদার ছাড়া বলিউডে নিজের জায়গা করে নেওয়া অভিনেতারা। এবার এই বিষয়ে কথা বললেন অভিনেতা অভয় দেওল।

অভিনেতা হিসেবে তিনি যে দক্ষ তা সমালোচক মহলে বারবার প্রমাণ করেছেন অভয় দেওল। কিন্তু তাও কখনোই প্রথম সারির অভিনেতার তকমা পাননি তিনি। অন্যদিকে অভিনয়ে কাঁচা থেকেও বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতাদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন স্টারকিডরা। আর তাই অভয় জানাচ্ছেন সুশান্তের সমস্যা তিনি খুব ভালোই বুঝতে পারেন। কারণ এক সময় তাকেও বলিউডের লবিবাজির শিকার হতে হয়েছিল।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাথে সাক্ষাৎকারে অভয় বলছেন, “সুশান্তকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। কিন্তু আমি ওর সমস্যা বুঝতে পারি কারণ একই জিনিসের শিকার আমিও। ওর মৃত্যুর পর নয়। এর আগেও আমি বলিউডের ভেদাভেদ নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু খারাপ লাগে এই কারণে যে একজনের মৃত্যুর পরে প্রত্যেকের হুঁশ ফেরে। কিন্তু খুশি হয়েছি যে সবাই এই বিষয়টিকে নিয়ে এখন কথা বলছেন। পরিবর্তন করার কথা হচ্ছে। শুধু বহিরাগতই নয়, ইন্ডাস্ট্রির যারা নিজের তাদের প্রত্যেকের উপর মানসিক অত্যাচার বন্ধ হোক।”

সম্প্রতি, অভয় নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে একটি ছবি শেয়ার করেছেন জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা সিনেমার থেকে। ছবির ফ্রেমে রয়েছেন তিনি, হৃত্বিক রোশন এবং ফারহান আখতার। এই ছবিতে তিনজনেই সমান গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু অভয় দেওলের দাবি, প্রত্যেকটি অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে হৃতিক রোশনকেই ছবির একমাত্র নায়ক হিসেবে দেখানো হয়।

অন্যদিকে তাঁর ও ফারহান আক্তারের চরিত্রটি পার্শ্ব চরিত্র বলে বিবেচনা করা হয় আওয়ার্ড শো গুলিতে। হৃতিক এবং ক্যাটরিনা কাইফের চরিত্র দুটিকে বলা হয় মুখ্য চরিত্র। ছবির ক্যাপশনে অভয় দেওল লিখছেন, “আমি এটা বলতে চাই বেশিরভাগ আওয়ার্ডস শোতেই আমার এবং ফারহানের চরিত্রটিকে মূল চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। বলা হয় এই দুটি পার্শ্বচরিত্র। হৃতিক এবং ক্যাটরিনার চরিত্রটিকে মূল চরিত্রের অভিনেতা বলা হয়। ইন্ডাস্ট্রির নজরে এটা একজন নারী ও পুরুষের প্রেমে পড়ার গল্প যাদের পাশে ছিল কয়েকজন বন্ধু।”

অভয় জানান ইন্ডাস্ট্রিতে এমন লবি আছে যার ফলে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকে। এই ছবিটির ক্ষেত্রেও শুধু হৃত্বিককে মূল অভিনেতার খেতাব দেওয়া মোটেই মেনে নেননি অভয়। তাই তিনি এই অ্যাওয়ার্ড শোগুলোকে বয়কট করেছেন বলে জানান।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ