ফাইল ছবি

সুলগ্না দাস: মহানগরীতে কতটা সুরক্ষিত আমরা? কমবেশি সবাইকেই ভাবাচ্ছে এই একটাই প্রশ্ন৷ শহর কলকাতার বুক জুড়ে শিরা উপশিরার ন্যায় ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো উড়ালপুল৷ কিন্তু, কতটা মজবুত এসব উড়ালপুলের ভিত? সেই প্রশ্নই এখন শহরবাসীর মুখে মুখে ফিরছে৷

৪ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার৷ বিকেল চারটে বেজে পয়তাল্লিশ মিনিট৷ চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যেই আকস্মিক কম্পন৷ মুহুর্তে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাঝেরহাট ব্রিজের একটা অংশ৷ নিমেষে বদলে যায় জনবহুল উড়ালপুলের ছবি৷ ব্যস্ততা ছেড়ে রাজপথে তখন হাহাকার৷ চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে চাপ চাপ রক্ত৷ কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে প্রিয়জনকে হারানোর আর্তনাদ৷

আরও সামনে এগিয়ে গেলে দেখা যাবে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভগ্নাংশ৷ শুধু গাড়ি নয়, রয়েছে বাস মিনিবাসও৷ এদিকে খানিক আগে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেছেন স্থানীয়রা৷ ছুটে এসে প্রাথমিকভাবে তারাই উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছিলেন৷

পড়ুন: মাঝেরহাট সেতুর অবস্থা খতিয়ে দেখতে মনিটারিং সেল

আজ বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর৷ মাঝে কেটে গিয়েছে পুরো একটা দিন৷ দিনের আলোয় এখন স্পষ্ট বহু পুরনো এই মাঝেরহাট ব্রিজের কঙ্কালসার কাঠামো৷ কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসা লোহার রডই প্রমান করছে ঘটনার ভয়াভয়তাকে৷ এখনও জারি রয়েছে উদ্ধারকার্য৷ তবে, মাঝে মাঝে বৃষ্টি বাধা তৈরি করেছে উদ্ধারকার্যে, কমাচ্ছে কাজের গতিকে৷ ভেঙে পড়া এই মাঝেরহাট ব্রিজের নীচে দিয়েই গিয়েছে ট্রেনলাইন৷

একটি নয়, রয়েছে পাশাপাশি দুটো লাইন৷ বজবজ-শিয়ালদহ এবং চক্ররেলের লাইন৷ যেগুলির মাধ্যমে প্রতিদিনই কয়েক হাজার মানুষ পৌঁছে যান নিজের গন্তব্যে৷ কিন্তু, কতটা সুরক্ষিত আপনার এই যাত্রাপথ? উঠছে এমনই কিছু প্রশ্ন৷ যার উত্তর দিতে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছে প্রসাশন৷

ইতিমধ্যে দুর্ঘটনায় তিনজন নিহতের কথা জানা গিয়েছে ৷ চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজন৷ ব্রিজের ঠিক নীচের অংশেই রয়েছে বেশ কিছু অস্থায়ী বাসস্থান৷ মূলত দিনমজুররাই পেটের দায়ে ঘর বেধেঁছিলেন পুলের নীচে৷ কিন্তু, ভাগ্যের পরিহাসকে অস্বীকার করতে পারেননি তারাও৷ ভেঙে পড়া পুলের অংশে চাপা পড়ে অস্থায়ী সংসার৷

এমত অবস্থায় ফেসবুকে অনেকেই নিজেকে‘সেফ’মার্ক করছেন৷ আবার অনেকেই নিজেকে তালিকার বাইরে রেখেছেন৷ আমিও অবশ্য তালিকা বর্হিভুত মানুষ৷ কারণ, কর্মসূত্রে রাস্তাই আমার ঘর৷প্রত্যেকদিনই পার করতে হয় বেশ কয়েকটি ছোট বড় ব্রিজ উড়ালপুল৷এরকম অবস্থায় নিজেকে সেফ মার্ক করা কি যুক্তিসঙ্গত? অনেকেরই হয়ত দ্বিমত রয়েছে বিষয়টিতে৷তাই, একটাই অনুরোধ নিজেকে সেফ মার্ক করার আগে চিন্তা করুন৷ তাইপরই নিজেকে ‘সেফ’মার্ক করুন৷

পড়ুন: মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙ্গে বিপর্যয় তদন্তে গঠিত সিট

আপাতত বন্ধ মাঝেরহাট ব্রিজের বাস রুট৷ নিত্য অফিস যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই৷ বদলে গিয়েছে প্রতিদিনের পরিচিত রাস্তা৷ বাড়ি থেকে অফিসে পৌঁছতে যার সময় লাগত ৩৫ মিনিট৷ কিন্তু, দুর্ঘটনার কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় এখন ৩৫ মিনিটের রাস্তার জন্য এখন সময় লাগছে এক ঘন্টারও বেশি৷ কতদিন চলবে এই যাত্রীভোগান্তি? সঠিক উত্তর মেলেনি প্রসাশনের থেকেও৷

তাই, আপাতত বন্ধ আমাদের পরিচিত এবং ব্যস্ততম মাঝেরহাট ব্রিজ৷ উল্টোডাঙ্গা, পোস্তা উড়ালপুলের পর এবার মাঝেরহাট ব্রিজ৷ একের পর এক ভয়াবহ উদাহরণের সাক্ষী হচ্ছে এই কলকাতা শহর৷ কিন্তু, এতেও টনক নড়বে কী প্রশাসনের? নাকি গতানুগতিকভাবেই চলবে এই প্রসাশনের কর্মযজ্ঞ৷পুরোটাই সময়নির্ভর৷

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।