স্টাফ রিপোর্টার, নয়াদিল্লি: লোকসভা নির্বাচনে বিপুল হারে গেরুয়া ঝড় বইতে চলেছে বাংলায়। পদ্মের দাপটে অনেক আসন কমতে চলেছে ঘাস ফুল শিবিরের। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে জনমত সমীক্ষায়।

আরও পড়ুন- ব্রাত্যকে সরিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির মন্ত্রী হলেন অমিত

বৃস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের জনমত সমীক্ষা। সমগ্র দেশ জুড়ে সেই সমীক্ষা চালিয়েছে সি ভোটার নামক একটি সংস্থা। যেখানে জাতীয় এবং রাজ্য রাজনীতিতে বড় বদলের ইঙ্গিত করা পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন- মাঝেরহাট কাণ্ডে মৃত্যু আরও একজনের

সমীক্ষার তথ্য বলছে রাজ্যে বহু সংখ্যায় আসন বাড়তে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টির। বাংলার মাটিতে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। সি ভোটারের সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য অনুসারে ২০১৯ সালের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১৬টি আসন পেতে চলেছে পদ্ম শিবির।

২০১৪ সালে এই রাজ্য থেকে বিজেপির প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ছিল মাত্র দুই। এই সমীক্ষা সত্যি প্রমাণিত হলে আগের থেকে আট গুণ বেড়ে যাবে বিজেপির আসন। যা নিঃসিন্দেহে বঙ্গ বিজেপি একটা বড় সাফল্য। যদিও দলীয় নেতাদের ২২টি আসন দখলের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন দলের শীর্ষনেতা অমিত শাহ।

বিরোধী পদ্ম শিবিরে খুশির হাওয়া বইলেও আকাশ মেঘলা ঘাস ফুল শিবিরে। সি ভোটারের সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আটটি আসন হাতছাড়া হতে চলেছে। ২০১৪ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ৩৩টি আসন পেয়েছিল। এই বছরে তারা ২৫টি পেতে পারে বলে মনে করছে সি ভোটার।

রাজ্যে ৪২টি আসনের সবগুলিই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে যাবে বলে দাবি করেছেন দিদির ভাইয়েরা। প্রায় সকল তৃণমূল নেতা এই দাবি করে আসছেন। একই সঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বলেও দাবি ঘাস ফুল নেতাদের। কিন্তু এই সমীক্ষা রিপোর্ট সেই দাবিতে প্রশ্ন চিহ্ন ফেলে দিল।

আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে, রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে বামেদের পকেটে কোনও আসন যাচ্ছে না। একদা ৩৪ বছর শাসন করা রাজ্য থেকে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে লাল ঝাণ্ডাধারীদের। এই মূহূর্তে রাজ্যে দু’টি আসন রয়েছে বামেদের। দুই কেন্দ্রেই সাংসদ সিপিএম রয়েছেন।

তবে কংগ্রেস এই রাজ্য থেকে একটি আসন পারে বলে মনে করছে সি ভোটার। তবে ঠিক কোন আসন হাতের দখলে যাবে তা নিশ্চিত করে এখনও জানায়নি সমীক্ষা চালানো সংস্থা। মুর্শিদাবাদ বা মালদহ জেলার কোনও আসনে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী জিততে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এই ধরনের সমীক্ষার রিপোর্ট সবসময় মেলে না। তবে একটা আভাস পাওয়া যায়। আরও বড় কথা হচ্ছে, এই সমিইখা চালানো হয়ছে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ওই সময়ে মানুষের মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে সি ভোটারের এই সমীক্ষায়। এখনও মাস ছয়েক বাকি রয়েছে লোকসভা নির্বাচনের। জনমতের বদল হওয়া কিছু অস্বাভাবিক নয়।