নয়াদিল্লি: বৃথা ইভিএমকে দোষ দিয়ে লাভ নেই৷ তার চেয়ে বিরোধীরা বরং সম্মানের সঙ্গে পরাজয় গ্রহণ করে নিক৷ ইভিএমের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিরোধীদের এই ভাবেই জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ৷

সাত দফার মহারণ মিটতেই বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল আসতে শুরু করে৷ প্রতিটি সমীক্ষাতেই বিপুল জনাদেশ নিয়ে মোদী সরকারের ফিরে আসার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু এই সমীক্ষা একেবারেই মানতে নারাজ বিরোধী শিবির৷ তাদের মতে, ইভিএমে গণ্ডগোল না হলে এই ধরনের ফলাফল বিজেপির পক্ষে অসম্ভব৷ প্রতিটা রাজ্যে যে পরিস্থিতি ছিল তার সঙ্গে এই সমীক্ষা একেবারেই বেমানান৷ তাই ইভিএমে সুরক্ষার দাবিতে সব বিরোধী দলগুলি কমিশনের উপর চাপ বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে৷

বৃহস্পতিবার লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশ৷ ওই দিন বুথফেরত সমীক্ষার সঙ্গে জনতার রায় মিলে গেলে বিরোধীরা ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হবেন তা বলাই বাহুল্য৷ কিন্তু সেই অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই এবং বিরোধীদের সম্মানের সঙ্গে পরাজয় গ্রহণ করে নেওয়ার পরামর্শ দেন আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ৷ তাঁর যুক্তি, বিজেপি যখন নির্বাচনে জেতে তখন বিরোধীরা ইভিএমে দোষ খুঁজে পায়৷ কিন্তু নিজেরা যখন ভোটে জেতে তখন ইভিএম ঠিকমতো কাজ করে৷

রবিশঙ্করপ্রসাদের কটাক্ষ, ‘‘চতুর্থ দফার ভোট শেষ হতে বিরোধীরা ইভিএমে কারচুপির অভিযোগে চিৎকার শুরু করে৷ কারণ তারা বুঝে যায় মানুষের আর্শীবাদে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসতে চলেছেন৷ তাই বিরোধীরা এখন অজুহাত খুঁজছে৷ যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’বার জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন, পঞ্জাবে যখন অমরিন্দর সিং মুখ্যমন্ত্রী হোন তখন ইভিএমে কোনও দোষ নেই৷ কিন্তু আরও একবার কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের যখন ফিরে আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে তখন বিরোধীরা ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ সরব হয়েছে৷ বিজেপি এই সবের নিন্দা করছে৷ এবং বিরোধীদের কাছে আর্জি জানাচ্ছে, এই হার তারা গ্রহণ করে নিক৷’’

আইনমন্ত্রীর মতো তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোরের একই মত৷ তিনি জানান, বিরোধীরা বুঝতে পেরেছে বিজেপি ফের ক্ষমতায় আসছে৷ তাই এখন ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে৷