নয়াদিল্লি: লোকসভা নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় থাকতে চলেছেন মোদী। তেমনই ইঙ্গিত দিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচন। কারণ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান চারটি পদের তিনটিই গিয়েছে গেরুয়া শিবিরের দখলে।

সভাপতি, সহ সভাপতি, সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদক প্রধানত এই চারটি শীর্ষ আসনের দিকেই নজর থাকে সব পক্ষের। সম্পাদকের পদ ছাড়া সবগুলিই গিয়েছে গেরুয়া ছাত্র সংগঠন এবিভিপির দখলে।

জাতীয় রাজধানীর বুকে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনের উপরেই নাকি নির্ভর করে রয়েছে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফল যে লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তার প্রমাণ দিচ্ছে পরিসংখ্যান।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত গেরুয়া সংগঠন অখিল ভারতীয় ছাত্র পরিষদ(এবিভিপি) এবং কংগ্রেস সমর্থিত ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া(এনএসইউআই) এই দুই দলই ঘুরে ফিরে পরিচালন ক্ষমতায় থাকে। দিল্লির অপর প্রসিদ্ধ উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আবার বামেদের প্রাধান্য বেশি।

বুধবার হয় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় গণনা। মাঝে এইভিএম মেশিনে ত্রুটির জন্য স্থগিত রাখা হয় ভোট গণনা। যদিও রাতের দিকে ঘোষণা হয়েছে ফল। যেখানে জয়জয়কার দেখা গিয়েছে গেরুয়া শিবিরের। সভাপতি হয়েছেন অঙ্কিভ বৈশ্য, সহ সভাপতির পদ দখল করেছেন শক্তি সিং, সম্পাদক হয়েছেন আকাশ চৌধুরী এবং যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন জ্যোতি চৌধুরী। সমাপদক আকাশ কেবলমাত্র এনএসইউআই-র প্রতিনিধি।

সভাপতি অঙ্কিভ এবং সহ সভাপতি শক্তির মাঝে যুগ্ম সম্পাদক জ্যোতি

এই জয়ের পরে সভাপতি অঙ্কিভ বলেছেন, “দলীয় কর্মীদের কারণেই এই সাফল্য এসেছে। সকলকে অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “মোট বাজেটের অর্ধেকের বেশি অর্থ মহিলা এবং অনগ্রসর শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য খরচ করা হবে। ২৪ ঘণ্টার জন্য লাইব্রেরির ব্যবস্থা এবং মেট্রোতে পড়ুয়াদের ছাড়ের ব্যবস্থাকে আমরা অগ্রাধিকার দেব।”

পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৯৯৭ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ দখল করে এবিভিপি। সভাপতি, সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদক সহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদই দখল করে গেরুয়া বাহিনী। ১৯৯৮ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকার দেশের শাসনভার হাতে পায়। ১৯৯৮ সালের ছাত্র সংদের নির্বাচনে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছিল এবিভিপি প্রার্থী। এনএসইউআই-র দখলে ছিল সহ সভাপতি এবং যুগ্ম সম্পাদকের পদ। পরের বছরে এনডিএ ফের ক্ষমতা দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

২০০৩ সালের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে এনএসইউআই চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদই দখল করেছিল। ২০০৪ সালে পতন ঘটে বাজপেয়ী পরিচালিত এনডিএ সরকারের। ২০০৮ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ২০০৩ সালের ছবিই দেখা গিয়েছিল। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অটুট ছিল মনমোহন সিং-র সরকার।

২০১৩ সালে আবার গেরুয়া হয়ে ওঠে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ। চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদের তিনটিই পায় এবিভিপি। এনএসইউআই-র ঝুলিতে যায় কেবলমাত্র যুগ্ম সম্পাদকের পদ। ২০১৪ সালে রেকর্ড জয় হাসিল করে এনডিএ। ৫৪৩ আসনের মধ্যে ২৮২টি পায় বিজেপি একা। এনডিএ জোটের ঝুলিতে যায় ৩৫২টি আসন।