সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক কলেজে ছাত্র ইউনিয়ন ইলেকশনের দাবিতে সরব হল এবিভিপি। তারা আগেই জানিয়েছিল যে ছাত্র ভোট নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত না হলে কলেজগুলিতে অবস্থান আন্দোলনের নামবে তারা। মঙ্গলবার তেমন কোনও বড় আন্দোলন না হলেও এবিভিপি-র কলকাতা শাখা এ নিয়ে ডেপুটেশন জমা দেয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এদিন তাদের রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থ্যাকে নিয়ে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে শ্যামবাজার থেকে মিছিল শুরু করে। মিছিল যায় পুরো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। এর মাঝেই তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তারা তাদের দাবিতে সরব থাকে। কলেজ স্ট্রিটের সামনে এসে তারা রাস্তায় বসে তাদের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। মহাত্মা গান্ধী রোড যানজটে পূর্ণ হয়ে যায়। শেষে পুলিশ এসে এবিভিপি-র সদস্যদের দ্রুত রাস্তা খালি করার কথা বলে দেয়। এরপরেও আরও কিছুক্ষণ আন্দোলন চলে রাস্তাতে বসেই। বৃষ্টি থামতে তবে রাস্তা ছেড়ে দেয় তারা।

এরপরেই ছিল তাদের ডেপুটেশন জমা দেওয়ার পালা। তাদের পাঁচ প্রধান সদস্য গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেয়। প্রধান দাবি, ছাত্র ভোট হলেও পাশাপাশি তাদের অনেকগুলি দাবি ছিল। অনলাইনে ভরতি প্রক্রিয়ার দাবি যেমন ছিল ডেপুটেশন পত্রতে তেমনই বলা হয় ভোট না হওয়া পর্যন্ত ইউনিয়ন রুম খোলা যাবে না। ইউনিয়ন ফি নেওয়া যাবে না। কলেজ উন্নয়নের আয় ব্যায়ের হিসাবের বার্ষিক খরচ প্রকাশ করতে হবে।

পাশাপাশি পাস ও অনার্সে আসন বৃদ্ধি, নেশামুক্ত ক্যাম্পাস, পরিশুদ্ধ পানীয় জল, পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের শুন্যস্থান পূরণ। পেশাদারি কোর্সের কথা ভাবা। ছাত্র যাতে রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র চলে না যায় সেই ব্যবস্থা করা, ছাত্রীদের আবাসিক তৈরি করা এবং তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, তপসিলি ও উপজাতির জন্য ছাত্রাবাস তৈরি, শুধু একটি সম্প্রদায় নয় সমস্ত সম্প্রদায়ের ছাত্রদের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়া এবং প্রতিটি কলেজে সিসিটিভির ব্যবস্থা আবশ্যক করার আবেদন ছিল ওই ডেপুটেশন পত্রে। মঙ্গলবার অল্প আন্দোলন হয়েছে , দাবি না পূরণ না হলেই বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলে জানিয়েছে তারা।

পড়ুন:   দুর্নীতি না রুখলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি এসএফআইয়ের

লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির তাক লাগানো ফলের পর আরএসএস-এর লক্ষ্য ছিল রাজ্যের কলেজগুলিকে ক্ষমতা বিস্তার করা। এই মুহুর্তে রাজ্যের কলেজগুলিতে খাতায় কলমে টিএমসিপির আধিপত্য। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই ভরতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ্বতার দাবি ছাড়াও, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভোটের দাবি করা হয়েছে।

রাজ্যের লোকসভা ভোটে সাফল্য এসেছে। এবার ভিত গড়তে আরএসএস-এর লক্ষ্য কলেজ। রাজ্যের ৫০০ কলেজে ইউনিট খোলার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার ছাত্রীকে আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছিল আগেই।