সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ১৩০ কোটি ভারতবাসীকে মারাত্মক বিপদের সামনে ঠেলে দেওয়া দিল্লির নিজামুদ্দিন মার্কাজের আয়োজক এবং সেই সাথে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানকারী প্রতিটি প্রতিনিধি যারা এখনো পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিকারীকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি তাদের বিরুদ্ধে আইনত এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিদ্যার্থী পরিষদ দাবি রাখছে।

এবিভিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তরফে জানানো হয়েছে, ‘আজ থেকে ঠিক দুই সপ্তাহ আগে দিল্লির নিজামুদ্দিন মার্কাজের ধর্মীয় সমাবেশে ভারত এবং বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। একসঙ্গে এক জায়গায় অনেক বিদেশীর উপস্থিতি অপরাধমূলক এবং এক্ষেত্রে ভিসা নীতিও লঙ্ঘন করা হয়। যেহেতু ভিসা গুলি শুধুমাত্র ভারতে পর্যটক হিসেবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কোন ধার্মিক প্রচার-প্রসার কিংবা ধার্মিক ভাষণ দেওয়ার জন্য নয়। ধর্মীয় সভা শেষ হওয়ার তিন দিন পরেও এক জায়গায় অতিরিক্ত বিদেশিদের উপস্থিতি যেমন একাধারে সোশ্যাল ডিসটেন্সকে লংঘন করা হয় তেমনি অন্যদিকে ধর্মীয় সভার উদ্যোক্তাদের অবহেলা, অবজ্ঞা এবং পরিকল্পিত অপরাধকেও সামনে নিয়ে আসে।’ একইসঙ্গে তাঁরা জানাচ্ছেন , ‘পরবর্তী সময়ে দিল্লির তাবলীগ জামাতের অংশগ্রহণকারীদের লালারস পরীক্ষা করা হলে বেশিরভাগই করোনা পজিটিভ পাওয়া যায় এবং তাদের অনেক নিকটাত্মীয়ও আজ এই জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত হয়েছেন। এই সমস্ত কারণে করোনা ভাইরাস নামক মারাত্মক সংক্রমণকারী জীবাণু আজ সারা দেশ জুড়ে অভূতপূর্ব ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।’

গেরুয়া ছাত্র সংগঠনের আরও দাবী , ‘দুর্ভাগ্যক্রমে এই কঠিন সময়ের মধ্যেও তথাকথিত বাম ছাত্র সংগঠনগুলো আবার নৈতিকতা হারিয়ে নোংরা নীতি গ্রহণ করেছে। তারা আজ দেশের সকল নাগরিককে সমূহ বিপদের সামনে ফেলে দেওয়া সেই সকল দোষী ধর্মীয়সভার আয়োজকদের পাশে দাঁড়িয়ে এই অবৈধ জমায়েতকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছে। এছাড়াও এই ঘটনাকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভক্ত করার একপ্রকার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এবিভিপি বাম ছাত্র সংগঠনের এইরূপ প্রয়াসকে দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা জানায়। এছাড়াও কিছু মৌলবাদী সংগঠনও অনুশাসন মানছে না । বিপরীতে করোনায় আক্রান্তদের উদ্ধার করতে গেলে চিকিৎসক , স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুলিশের উপর পাথর ছুড়ে আক্রমণ করছে।আবার মৌলবাদীদের এই জঘন্য আচরণকে দেশেরই বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন যেভাবে সমর্থন করছে তা শুধু উদ্বেগের নয় যথেষ্ট চিন্তারও বটে।’

এই প্রসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে এবিভিপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কুমারী নিধি ত্রিপাঠি বলেন, ‘নিজামুদ্দিনের এই ধর্মীয় সভার পর থেকেই দেশে এক ধাক্কায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে দেশের পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হতে চলেছে। ধর্মীয় সভায় উপস্থিতদের সকলকে স্ব-বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে এবং তা একপ্রকারভাবে নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এরপরেও কিছু বামপন্থী ও অন্যান্য ধর্মান্ধ ছাত্র-সংগঠন এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। যা অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং পরিস্থিতিকে হয়তো আরও খারাপ করে তুলবে। এখন সাম্প্রদায়িকতাকে দূরে সরিয়ে মানবিকতার খাতিরে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে।’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।