স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আট বছর আগে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ঘাষফুল ফুটেছিল৷ ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে মোদী ঝড় তুলে দেশের ক্ষমতা দখল করে বিজেপি৷ যদিও সেই ঝড়ের আঁচ বাংলায় পড়তে দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলোতে চেয়েও এবিভিপির সংগঠন করতে পারেনি জাতীয়তাবাদের মতাদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রছাত্রীরা৷ সপ্তদশ লোকসবা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির চমকপ্রদ ফলের জন্য মেডিক্যাল কলেজগুলোতেও এবিভিপি শক্তি সঞ্চয় করছে৷

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের রাজশ্রী বাগ এবিভিপির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অনেকদিন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন টিএমসিপির দখলে৷ কলেজে টিএমসিপির নেতৃত্বস্থানীয়রা এতটাই উগ্র যে অন্য সংগঠন করা তো দূর সাধারণ সমস্যা নিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পায় অনেকে৷ সত্যি বলতে কী ভেতরে ভেতরে এবিভিপির সমর্থক অনেকেই রয়েছে৷ কিন্তু সাহস করে সামনে এসে এবিভিপি করার লোক ছিল না এতদিন৷ আমরা পড়াশুনো করতে এসেছি ওদের মতো মারপিট করতে পারবো না৷ তবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থানে অনেকটাই সাহস পাচ্ছি৷ একটা দমবন্ধ অবস্থা , যেটা এতদিন কলেজে চলে আসছিল সেটা হয়ত এবার কেটে যাবে৷’’

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় রাজ্যে ভোট হয়েছিল উত্তরবঙ্গে৷ এখানকার মানুষ দু’হাত তুলে বিজেপিকে সমর্থন করেছেন৷ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার থেকে বালুরঘাট, রায়গঞ্জ তৃণমূলকে কার্যত উত্তরবঙ্গ থেকে মুছে দিতে সমর্থ হয়েছে বিজেপি৷ এই গেরুয়া ঝড় এবার আঁচড় কাটতে চলেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজেও৷ এখানের এবিভিপি কার্যকর্তা গনেশ কামটি বলেন, উত্তরবঙ্গে মানুষ রাজ্যে জাতীয়তাবাদকে আবার পুনপ্রতিষ্ঠিত করেছে৷ ফল ঘোষনার পর আমাদের কাছে ফোনে, হোয়্যাটসঅ্যাপ ফেসবুকে মেসেজ করে অনেকেই যুক্ত হতে চাইছেন৷ টিএমসিপির অনেকে আসতে চাইছেন৷ আমরা খুব তাড়াতাড়ি এখানে এবিভিপির ইউনিট চালু করব৷

লোকসভায় রাজ্যে বিজেপির ভালো ফলের জন্য এবিভিপির প্রাসঙ্গিকতা এবং গ্রহণ যোগত্যতা যে অনেকাংশে বাড়ল তা এক বাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সপ্তর্ষী সরকারও৷ তিনি জানান, বাংলা জাতীয়তাবাদের ভূমি৷ আগেও আমাদের অনেকেই সমর্থন করতেন কিন্তু শাসক দলের ভয়ে সামনে আসতে পারতে না৷ রাজ্যের মানুষ লোকসভায় জাতীয়তাবাদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন৷ স্বাভাবিকভাবেই ভয় কাটিয়ে অনেকে আসছেন আমাদের কাছে৷