স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : ভদ্রেশ্বর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তীর ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে দ্বাদশ শ্ৰেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলছে এবিভিপি। তাঁদের আরও অভিযোগ এর প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামায় তাঁদের মারধোর করেছে তৃণমূলের গুন্ডারা। অভিযোগ,ভাগ্নির সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে তৃণমূলী গুন্ডাদের হাতে প্রহৃত হন মামা সুজিত ঘোষ এবং ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চেয়ে লাগাতার খুনের হুমকি পাচ্ছেন নির্যাতিতার বাবাও।

নিত্যনৈমিত্তিক ধর্ষণ ও নির্যাতনে আজ এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ। শিশু,কন্যা থেকে বৃদ্ধা কেউ আজ ছাড় পাচ্ছে না। পার্কস্ট্রিট,কামদুনি,কাকদ্বীপ, জি ডি বিড়লা, এম পি বিড়লা, বীরভূম,মালদা, ভাটপাড়া,বাগনান এইরকম হাজারও নামের সাথে নবতম সংযোজন হুগলির ভদ্রেশ্বর এর ঘটনা বলে দাবি করছে এবিভিপি। ঘটনার কথা জানতে পেরেই ছাত্রী পরিবারের পাশে থেকে বিচারের দাবিতে বিদ্যার্থী পরিষদের কার্যকর্তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভদ্রেশ্বর থানার সামনে প্রতিবাদ করলে তখন পুলিশ প্রশাসনের সামনেই তাঁদের রাজ্য সম্পাদক শ্রী সুরঞ্জন সরকার, সহ-সম্পাদক শ্রী শানি সিং, হুগলি জেলা সংযোজক শ্রী ধর্মদাস বাউরি ও অন্যান্য কার্যকর্তাদের উপর উল্টে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীরা। এতে রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি গুরুতরভাবে আহত হন আমাদের দুজন কার্যকর্তা। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে হুগলি জেলা সংযোজক শ্রী ধর্মদাস বাউরি জানান, ‘হুগলি জেলায় যেভাবে নারী নির্যাতন বেড়েই চলেছে তাতে আমাদের মা-বোনেরা নিজেদের অসুরক্ষিত মনে করছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহিলা হয়েও মহিলাদের সুরক্ষার বাপ্যারে কোনোরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। প্রতি ক্ষেত্রেই বিচারের দাবিতে বিরোধীদলকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। সময়মতো অভিযুক্তদের গ্রফতার না করার যে প্রশাসনিক উদাসীনতা বারবার দেখা যাচ্ছে তা আমাদের হতাশ করছে।’

এক্ষেত্রে দক্ষিণবঙ্গ রাজ্যে সম্পাদক শ্রী সুরঞ্জন সরকার বলেন, ‘যেভাবে বঙ্গে নারীদের সম্মান নিয়ে প্রতিনিয়ত ছিনিমিনি খেলা হয় সেই বঙ্গে কন্যাশ্রী প্রকল্প আসলে লোক দেখানো আষাঢ়ে গল্প মাত্র। কারণ রাজ্যের নারীরা আজ বাস,ট্রেন,ট্রাম,রাস্তা বা তার নিজ বাড়ি কোথাও সুরক্ষিত নয়। তৃণমূল সরকার আসার পর থেকেও আমরা দেখছি প্রতিদিনই ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা সংবাদপত্রের পাতায় থাকছেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা না নয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। আর তাদের কুকর্মের বাড়বাড়ন্তের মুখ্য কারণ হচ্ছে বিচারহীনতা। তাই প্রশাসনের কাছে বিদ্যার্থী পরিষদ স্পষ্ট দাবি জানাচ্ছে ভদ্রেশ্বর ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল চেয়ারম্যান ও তার গুন্ডা দলবলের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনত ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সারা রাজ্য জুড়ে আরও বড় আন্দোলনে নামবে।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ