স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : শিক্ষার্থীর স্বার্থে চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা গ্রহণ এবং বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত এমনটাই মনে করছে এবিভিপি। তাই তাঁরা শিক্ষা নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া উচিৎ বলে মনে করছে। হঠকারী কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়াই শ্রেয় হবে বলে তাঁরা মনে করছেন। সব দিক দেখে শুনে তারপর শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক। এমনটাই চাইছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ।

তাঁরা জানাচ্ছেন , ‘বিভিন্ন রাজ্য সরকার , কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বিষয়ে যে দ্রুত সমাধানের পথ গ্রহণ করেছে তার বিস্তৃত প্রভাব এবং পরিণতিগুলি বিবেচনার জন্য এবিভিপি শৈক্ষিক সমাজের কাছে আহ্বান জানায়। কোভিড ১৯ মহামারীর ফলস্বরূপ হিসেবে যে অবিস্মরণীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা শুধু আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে এবং শিক্ষাকে নয়, সেইসাথে আমাদের ঐতিহ্যবাহী পথ থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে।’

তাঁদের মতে , ‘বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চতর শিক্ষার কেন্দ্রগুলি শিক্ষা এবং মূল্যায়ন দেওয়াতে যে দ্রুত নতুন ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি অবলম্বন করেছে তাতে তীব্র বিতর্ক এবং আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান হিসাবে গৃহীত যে কোনও পদক্ষেপ যদি শিক্ষার মান অথবা শিক্ষার্থীদের সম্মানিত ডিগ্রির মান হিসাবে বিবেচনা করা হয়, সেক্ষেত্রে যথেষ্ট দূরদর্শিতা না থাকলে অদূর ভবিষ্যতে উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া বা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপর দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’ পাশাপাশি তাঁরা আরও জানাচ্ছেন , ‘গত ২৭ এপ্রিল ইউজিসি গাইডলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি যেমন ওপেন বুক এক্সাম, প্রজেক্ট ওয়ার্ক , রিটিন অ্যাসাইনমেন্ট, প্রবন্ধ লিখন, অনলাইন বা টেলিফোনিক ভিভা-ভয়েসের মতো যোগাযোগহীন হতে পারে এমন পরীক্ষার মডেলগুলি প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে সম্ভব সেখানে এ জাতীয় মূল্যায়নের ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু যেসব অঞ্চলে মূল্যায়নের এইসব পদ্ধতি ব্যবহারিকভাবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়, সেখানে পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা ভালো। এইরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষাবর্ষের সময়কাল এবং সিলেবাস হ্রাস করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে।’

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদিকা সুশ্রী নিধি ত্রিপাঠি জানিয়েছেন যে, ” শিক্ষার বিস্তৃতি ও লক্ষ্য এবং শিক্ষার গুণগত মান অবশ্যই বিবেচিত প্রাথমিক কারণ হতে পারে, সাথে সাথে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের বিষয়টিকেও মাথায় রাখতে হবে। নিট ও জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামের মতো পরীক্ষার মতো তারিখ স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে যে নতুন অধিবেশনগুলি ২০২০ সালের নভেম্বরে শুরু হতে পারে। সেক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এবং কলেজ গুলিকে কোভিড ১৯ মহামারীটি নিয়ন্ত্রণের আওতায় না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং তার পরবর্তী সময়ে মূল্যায়নের ভাল পদ্ধতি গুলি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। অদূর ভবিষ্যতে ভর্তি সংক্রান্ত যে প্রশ্নগুলি উত্থাপিত হতে পারে তার বিবাদ মিটিয়ে ফেলতেও এবিভিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই জন্য ‘তিনটি কাজ’- ভর্তি, পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের পরিষেবাতে ফলাফলের ওপর দৃষ্টিপাত করে আছে।”

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।