স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : করোনার জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভূত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ জানাচ্ছে , তাঁরা সবসময় ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে সঠিকভাবে মূল্যায়ন পদ্ধতি দাবি করে এসেছে। ২১শে সেপ্টেম্বর,২০২০ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তিম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে যে নির্দেশিকা জারি হয়েছে সেই নির্দেশিকা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবী তাঁদের। এর জন্যই তাঁরা প্রতিবাদ করছে।

এই বিষয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দক্ষিণবঙ্গ শাখার রাজ্য সম্পাদক শ্রী সুরঞ্জন সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সকল ছাত্র-ছাত্রীর পরীক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর পরীক্ষার কয়েকদিন আগে এই রকম বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের ফলে যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয় সেই দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে’।

এবিভিপি’র দাবী, ১. বিষয়ভিত্তিক ভাবে পরীক্ষার সময়সূচি স্পষ্টীকরণ করতে হবে। ২. বিষয়ভিত্তিক ভাবে পরীক্ষার পূর্ণমান স্পষ্টীকরণ করতে হবে। ৩. প্রশ্নপত্রের ধরন স্পষ্টীকরণ করতে হবে । ৪. উত্তর পত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন ও অফলাইন ব্যবস্থা চালু রেখে জমা পদ্ধতি সরলীকরণ করতে হবে। ৫. উত্তরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়াতে হবে।

প্রসঙ্গত কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করতে হবে পরীক্ষা। তবে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড এবং উত্তরপত্র আপলোডের জন্য অতিরিক্ত আধঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। এর আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়, পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন পাঠিয়ে দেওয়া হবে ই-মেল বা হোয়াটসঅ্যাপে। তাঁরা উত্তর লিখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে তা জমা দেবে। যাদের এই সুযোগ নেই, তারা সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে উত্তরপত্র জনা দিতে হবে।

সেপ্টেম্বরে নয়, অক্টোবরের ১ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে পরীক্ষা হবে। কিন্তু ইউজিসি’র এই নির্দেশিকার পর নতুন করে পরীক্ষা সূচি স্থির কর সোমবার বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকেই স্থির হয় মোট ২ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করতে হবে পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র ডাউনলোড এবং উত্তরপত্র আপলোডের জন্য সময় পাওয়া যাবে আরও ৩০ মিনিট। উল্লেখ্য, পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে ইউজিসির নির্দেশকে সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে জোর কদমে শুরু হয়ে যায় পরীক্ষা প্রস্তুতি।

রাজ্যের কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়গুলি প্রথমে ঠিক করে ছিল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা নেওয়া হবে না। আগের সেমেস্টারে পাওয়া নম্বর, ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বর্ষের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। কিন্তু ইউজিসি জানায়, পরীক্ষা ছাড়া স্নাতকের সার্টিফিকেট দেওয়া যায় না। তাই পরীক্ষা নিতেই হবে। সেইমতো শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নিজেদের পরীক্ষাসূচি স্থির করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।