গান্ধীনগর: এনআরসি, সিএএ সহ মূল্যবৃদ্ধির মতো ইস্যুগুলির এফেক্ট কি ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করেছে? জোর প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিল খোদ মোদী রাজ্যের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। গুজরাতের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠনের কাছে বড়সড় ধাক্কা খেল এবিভিপি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপির বিরুদ্ধে জোট গড়েছিল এসএফআই, বাপসা ও এলডিএসএফ। তাঁদের এই জোটের কাছেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হার হল এবিভিপি বাহিনীর। এই প্রথম গুজরাতে জিতল এসএফআই। সেদিক থেকে দেখলে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিচারে এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

অনেকের আশঙ্কা, ছাত্র সংসদের নির্বাচনের এই ফল গুজরাতে বিজেপির জন্য অশুভ ইঙ্গিত নয় তো? জেএনইউ-এর প্রাক্তনী ও অল ইন্ডিয়া প্রগ্রেসিভ উইমেন অ্যাসোশিয়েশনের সেক্রেটারি জানিয়েছেন, এবিভিপির এই হার তিনটি বার্তা দিচ্ছে। তাঁর দাবি, দেশের মানুষের মানসিকতা বদলাচ্ছে, গুজরাত মডেলের ব্যাপার মানুষের সামনে ফাঁস হয়ে গিয়েছে এবং রাজ্যের যুবকদের ক্রমশ মোহ ভঙ্গ হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি এখন আগের মতো কাজ করছে না।

অন্যদিকে জেএনইউতে শুক্রবার বড় জয় পেয়েছে বামপন্থীরা। দিল্লি হাইকোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পুরনো হারে ফি নিয়ে সেমিস্টারের রেজিস্ট্রেশন করতে দিতে হবে ছাত্রছাত্রীদের। আদালতের এই রায়ের পর খুশির আবহ ছিল বামপন্থী ছাত্র দলগুলির মধ্যে। আর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই খোদ মোদী গড় থেকে খুশির খবর এল তাঁদের জন্য।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে সামিল হয়েছিল পড়ুয়ারা। তাঁর মধ্যে ছাত্রসংসদের দায়িত্বে থাকা এসএফআই পড়ুয়াদের দাবিকে সমর্থন করে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদকে তীব্র থেকে তীব্রতর করে তুলেছিল। অবশেষে প্রায় ৩ মাস পর আদালতের রায় বিরাট স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে জেএনইউ-এর পড়ুয়াদের জন্য। পুরনো হারে ফি নিয়ে সেমিস্টারের রেজিস্ট্রেশন করতে দিতে হবে এই রায়ের পাশাপাশি আদলতের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই।