অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে দিল্লির পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ৩৪ জন মৃত। সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ সাধারণ মানুষ থেকে বিশিষ্টজনেদের। দুশ্চিন্তার সারা দেশের মানুষ। প্রভাব পড়েছে বাংলাতেও। দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সাহিত্যিক আবুল বাশার।

পড়ুন আরও- মোদী ঢাকায় এলে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা হবে: বিস্ফোরক নুরুল হক

kolkata24x7-কে আবুল বাশার বলেন, “রাষ্ট্র নিজেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। পুলিশ আর গুণ্ডা এক সঙ্গে নেমে পড়েছে রাস্তায়। এটা গুজরাট গণহত্যার মডেল। গোটা দেশে এখন গুজরাট হয়ে গিয়েছে। যেখানে পুলিশের পাশে গেরুয়া গুণ্ডারা অস্ত্র হাতে হাঁটছে! যেহেতু দিল্লির পুলিশ কেন্দ্রের পুলিশ, তাদের প্রশ্রয়েই এইসব হচ্ছে। পুলিশ বাহিনিকে কাজে লাগিয়ে এই হত্যাকাণ্ড চলানো হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট প্রশাসন চলছে কেন্দ্রে। বোঝা যাচ্ছে না এরা শেষমেশ কী চাইছে?”

পড়ুন আরও- তারের বেড়ায় শিং আটকে বিপত্তি, আহত হরিণকে উদ্ধার বনকর্মীদের

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র বক্তব্যের বিরোধিতা করে বাশার আরও বলেন, “দেখালেই গুলি করুন– গণতান্ত্রিক দেশে এই হুকুম করা যায় না। সিএএ-র বিরুদ্ধে যারা ধর্না দিয়েছেন তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ। সেখানে এই হামলা অপ্রত্যাশিত। পুলিশের কাজ শান্তি বজায় রাখা। তাহলে হামলা হল কেন? বোঝাই যাচ্ছে গুজরাটের মডেলে এবার দিল্লিতেও হত্যালীলা চলছে। তবে গুজরাটের সঙ্গে এর তফাৎ গুজরাটে মুসলিম নিধন হয়েছিল। এখানে মুসলিম-হিন্দু নিধন হচ্ছে।” আবুল বাশারের কথায়, “গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধর্ম প্রতিবাদ। রাষ্ট্র নিজেই একনায়কতন্ত্রী, হিংস্র শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তারা কোনও রকম প্রতিবাদ করতে দেবে না

ঠিক করেছে। প্রতিবাদ করা মানুষের অধিকার। সরকার তা করতে দিচ্ছে না। হুবহু গুজরাটের প্রতিচ্ছবি! মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিবাদ এখনও হচ্ছে। সরকার যদি পুলিশ দিয়ে লাগাতার জব্দ করতে থাকে তাহলে তার শেষ পরিণতি কী আমি জানি না।” দিল্লির রাজপথে সিএএ সমর্থনকারী ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। রাস্তায় রাস্তায় আগুন জ্বলছে। সর্বত্র হিংসার ছবি। এমনই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন সাহিত্যিক আবুল বাশার। ঘটনার জেরে তিনি উদ্বিগ্ন।