স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: ফের ভোটারদের বিক্ষোভের মুখে দক্ষিণ মালদহর কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরী৷

চলতি সপ্তাহে ইংলিশ বাজার ব্লকের খোয়ারমোড় এলাকায় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরীকে৷ । তার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে ফের একবার কালিয়াচক থানার জালালপুর গ্রামে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি৷

আরও পড়ুন: পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার বার্তাকে সঙ্গী করে সাইকেলে প্রচার বিজেপি প্রার্থীর

টোটোয় বসে থাকা কংগ্রেস প্রার্থীকে দীর্ঘক্ষণ ঘিরে রাথেন জালালপুর গ্রামের বাসিন্দারা। গতবারের মতো এবারও বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যায়, ‘‘গনিখানের নাম ভাঙিয়ে আর চলবে না৷’’ তাদের প্রশ্ন, ‘‘গত লোকসভার পর থেকে কেন সাংসদকে এলাকায় দেকা যায়নি?’’ বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটে যায় কংগ্রেস প্রার্থীর৷

আবু হাসেম খান ওরফে ডালুবাবুর নিরাপত্তা রক্ষীরা বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের শান্ত করার মরিয়া চেষ্টা চালান। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জালালপুর গ্রামের নির্বাচনী প্রচার বন্ধ করে ফিরে যান প্রয়াত গনিখানের ভাই৷

আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস তৈরি করেছি আমিই, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

যদিও ডালুবাবুর কথায়, ‘‘এসবই হচ্ছে তৃণমূলের চক্রান্ত। যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা তৃণমূলের পোষা গোলাম। এর আগেও আমি জালালপুর গ্রামে এসেছি। কিন্তু তখন মানুষ আমাকে দুই হাত তুলে আশীর্বাদ করেছে। এদিন কিছু তৃণমূলীরা চক্রান্ত করে এই কাজ করেছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরব।’’

এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ মালদহর তৃণমূল প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘‘ডালুবাবুর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। উনি নির্বাচনী প্রচারে যেখানেই যাচ্ছেন গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বিগত দিনে সাংসদ হওয়ার পর ডালুবাবুকে এলাকায় দেখতে পাননি সাধারণ মানুষ। সেই ক্ষোভ তো থাকবেই। এদিনের বিক্ষোভের বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন কংগ্রেস প্রার্থী।’’

আরও পড়ুন: দলকে ধাক্কা দিয়ে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ বিজেপি সাংসদের

আর যাদের জন্য শাসক বিরোধী তরজা, সেই বিক্ষোভকারীরা কি বলছেন? তাদের কথায়, ‘‘গত পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা এলাকার সাংসদকে দেখতে পাইনি। গ্রামে অনেক সমস্যা ছিল। তার সিংহভাগ সমাধান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। অথচ এলাকার একজন সাংসদ যিনি একসময় কেন্দ্রের মন্ত্রী পদে ছিলেন। তিনি একবারের জন্যও গ্রামের সমস্যার খোঁজ নেননি। সেই ক্ষোভ এতদিন চাপা ছিল। আমরা গনিখান সাহেবকে চিনি। তাকে শ্রদ্ধা করি। ওনার নাম ভাঙিয়ে বারবার ভোট নেবেন এটা মেনে নেব না। তাই ওনাকে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। গ্রামে প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে।’’

পরে কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে জামালপুর গ্রামে যান কালিয়াচক থানার পুলিশ। কিন্তু তার আগেই গ্রাম বেগতিক বুঝে গ্রাম ছাড়েন ডালুবাবু ও দলবল৷