ঢাকা: মাথার দাম ২০ লক্ষ টাকা। বাংলাদেশ, ভারত সরকারের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড। এমনই জঙ্গি নেতা জিয়া হলো যুক্তিবাদী অভিজিৎ রায় সহ অন্তত ১২ জন মুক্তমনা লেখক খুনের মুল পরিকল্পনাকারী। সে পলাতক। এই মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি কি আদৌ বাংলাদেশে রয়েছে? উঠছে এই প্রশ্ন।

রায় পড়ছিলেন ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনাল বিচারক। রায় ঘোষণার পর গোয়েন্দা ও পুলিশ কর্তাদের অনুমান, পলাতক এই শীর্ষ জঙ্গি ‘মেজর’ জিয়া গোপন ডেরায় সেই রায় শুনেছে। সেই সঙ্গে পরবর্তী অ্যাকশন প্ল্যান ছকে নিয়েছে। অভিজিৎ হত্যা মামলায় ৫ এবিটি জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজানো শোনানো হয় ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী আদালতে।

এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় ছয় বছর আগে আলোড়িত হয়েছিল দুনিয়া। ২০১৫ সালে ভিড়ে ঠাসা অমর একুশে গ্রন্থমেলার বাইরে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা এবিটি (এখন আনসার আল ইসলাম) সংগঠনের জঙ্গিরা কুপিয়ে খুন করেছিল অভিজিৎকে। তদন্তে উঠে আসে,ঘটনার সময় অভিজিৎ ও তাঁর স্ত্রী রফিদা বন্যা কে ঘিরে যারা কোপাচ্ছিল তাদের নেতৃত্ব দেয় এবিটি জঙ্গিদের কমান্ডার ‘মেজর’ জিয়া। ঢাকা মহানগর পুলিশ আগেই জানিয়েছে, বাংলাদেশে যতজন যুক্তিবাদী লেখক কে খুন করা হয়েছে তার বেশিরভাগই মেজর জিয়ার পরিকল্পনা।

সেনা অফিসার থেকে জঙ্গিদের ‘মেজর’ জিয়া:

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনি সাংবাদিক সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর দাবি করে। বলা হয়, সরকার উৎখাতে ধর্মান্ধ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার একটি অভ্যুত্থান পরিকল্পনা ব্যর্থ করা হয়েছে। এই অভ‌্যুত্থানের চাঁই সেনা অফিসার জিয়া উল হক। সে পলাতক। এরপর বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামটি উঠে আসে। গোয়েন্দা বিভাগ জানতে পারে এই সংগঠনের কমান্ডার হলো জিয়া উল হক জিয়া। জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে তার ছদ্মনাম ‘মেজর’।সেনাবাহিনির কায়দায় সে এবিটি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশে যুক্তিবাদী লেখকদের খুনের পর্ব শুরু হয়। প্রতিক্ষেত্রে জঙ্গি জিয়ার নেতৃত্বে আহসারুল্লাহ বাংলা টিম হামলা চালায়। এমনই জঙ্গি নেতার মাথার দাম ২০ লক্ষ টাকা৷ জিয়ার খোঁজে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে বাংলাদেশ সরকার৷ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা এবিটি জঙ্গি সংগঠনটি বিস্ফোরণ বা নাশকতা ছড়ানোর পথ না নিয়ে বুদ্ধিজীবী খুনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে৷ কোনও একটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদকে বাড়তে না দেওয়াই সংগঠনটির লক্ষ্য৷ সেই লক্ষ্যেই মেজর জিয়া এবিটি সংগঠনকে শক্তিশালী করে তুলেছে৷ এই জঙ্গি নেতা ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশন ক্যাফে হামলার অন্যতম চক্রী৷

মেজর জিয়ার নির্দেশে এবিটি জঙ্গিরা বাংলাদেশে পরপর খুন করা করেছে বেশকয়েকজন বুদ্ধিজীবী মুক্তমনাকে৷ এই তালিকায় রয়েছেন-
১. বাংলাদেশের প্রথম সমকামী পত্রিকার পরিচালক সম্পাদক জুলহাজ মান্নান। ২. জুলহাজের সহযোগী তনয় মজুমদার। ৩. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরাজি অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক। ৪. বগুড়ার গণিত শিক্ষক জিয়াউদ্দিন জাকারিয়া বাবু।
৫.সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক জগৎজ্যোতি তালুকদার। ৬.জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র এবং উদারপন্থী ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ। ৭.জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপন। ৮. ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়। ৯.নাস্তিক ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস। ১০.ওয়াশিকুর রহমান। ১১.অভিজিৎ রায়।১২. নাস্তিক ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দর। ১৩.রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শফিউল ইসলাম৷ ১৪.মুন্সিগঞ্জের কমিউনিস্ট নেতা তথা মুক্তচিন্তার লেখক বিশাখা প্রকাশনীর কর্ণধার শাহজাহান বাচ্চু

আনসারুল্লাহ নেটওয়ার্কে পশ্চিমবঙ্গ:

বাংলাদেশে পরপর এই মুক্তমনা যুক্তিবাদীদের খুনের ধারা পশ্চিমবঙ্গেও সংঘটিত করতে চায় মেজর জিয়া। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম পশ্চিমবঙ্গেও জাল ছড়ায়। ২০১৭ সালে কলকাতা স্টেশন থেকে দুই বাংলাদেশি জঙ্গি রিয়াজুল ইসলাম ওরফে সুমন ও সামসেদ মিয়া ওরফে তানভির ওরফে তুষারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশ জানায় ধৃতরা বাংলাদেশের আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সঙ্গে জড়িত। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাসিন্দা বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়ী মনোতোষ ওরফে মোনা দে-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল জঙ্গি সুমন ও তুষার৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা স্টেশনে তাদের গ্রেফতার করা হয়৷

আনসারুল্লাহ টার্গেটে পশ্চিমবঙ্গের যুক্তিবাদীরা:

বাংলাদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও আলকায়েদা ঘনিষ্ঠ আহসানউল্লাহ বাংলা টিম যুক্তিবাদীদের খুনের ছক করেছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। তবে কারা টার্গেটে ছিলেন তা স্পষ্ট করা হয়নি।

ইসলামিক স্টেটের মতো দক্ষিণ এশিয়াতেও জঙ্গি জাল ছড়িয়ে দিতে মরিয়া আল কায়েদা৷ এই লক্ষ্যে সংগঠনটি বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে৷ ২০১৪ সালে তৈরি হয় আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট বা একিইউআইএস৷ তাদের শাখা সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.