একজোড়া লাল চোখ, যেন প্রকৃতির উদ্ধত চ্যালেঞ্জ৷ নিঃশব্দে বলে দিচ্ছে-খবরদার৷ যারা এই চোখের মায়ায় পড়েছেন তাদের কিন্তু ভেদবমি অবধারিত৷ ফল মৃত্যু৷ ভয়ঙ্কর অথচ সুন্দর এই লাল চোখের ফল যে কাউকে আকর্ষণ করে তার রূপের হাতছানি দিয়ে৷ মনে হয় সমুদ্র বালুকাবেলায় ভেসে আসা কাঁকড়ার স্থির দৃষ্টি৷ কেউ হয়ত কাছে গিয়েছেন, দেখেছেন নয়নভরে৷ ব্যাস ওইটুকুই ঠিক৷ আর কেউ অতি উৎসাহে যদি সেই লাল চোখের প্রেমে মত্ত৷ ভুলেও এর বিষাক্ত চুম্বনের পাল্লায় পড়বেন না৷ মৃত্যু আসবে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েই৷

কখনও লাল তো কখনও কমলা-কখনও কালো তো কখন সাদা প্রকৃতি বৈচিত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রঙ পাল্টে নেয় কুঁচের বীজ৷ তবে তার লাল রঙটি সবথেকে আকর্ষণীয় বলেই ধরা হয়৷ ঘন সবুজ পাতার মধ্যে ফুটে থাকা অনবদ্য কুঁচ এমনই৷ মনে পড়ে কি কোনও এক গাঁয়ের শ্যামলা কন্যা তার কেশরাশিতে কুঁচ বীজের মালা পড়েছিল ? সেই কন্যা কি জানত সে অঙ্গে বিষের ডালি নিয়েছে ? তবুও সাহিত্যের পাতায় সেই কন্যা কখন যেন কুঁচ ফলকে চিরস্থায়ী করে দিয়েছে৷

এই ভয়ঙ্কর চোখের ফলটি তো আমাদেরই পরিচিত৷ কিন্তু বড্ড অপরিচিত তার ব্যবহার৷ সাধারণত আয়ুর্বেদিক ও কবিরাজি শাস্ত্রেই রয়েছে এর কদর৷ বাংলার কুঁচ, অসমের লাটুমণি অথবা উদ্ভিদ বিজ্ঞানে এর পরিচয় হল আব্রুস প্রেক্যাটরিয়াস (Abrus precatorius)- নীরবেই মৃত্যুর জাল বিছিয়ে রেখেছে৷ আবার তারই বিষ থেকে তৈরি হচ্ছে ওষুধ৷ জীবনদায়ী ও প্রাণঘাতী দুই তকমা নিয়েই ছড়িয়ে রয়েছে এরা৷

কতই যে নামে এই বীজ পরিচিতি৷ বিজ্ঞানের পরিভাষা বাদ দিলেও একাধিক নাম মেলে- রতি, রত্তি, কুঁচ, কইচ গোটা। কুঁচের আরও যেসব নাম আছে সেগুলো হচ্ছে চূড়ামণি, শাঙ্গুষ্ঠা, গুঞ্জা, সৌম্যা, শিখন্ডী, কৃষ্ণলা, অরুণা, তাম্রিকা, রক্তিকা, কম্ভোজী, ভিল্লিভূষণা, মাণচূড়া। আর কুঁচের সাদা প্রজাতিটির নাম হচ্ছে শ্বেতগুঞ্জা, ভিরিন্টিকা, কাকাদনী। (সৌজন্য উইকিপিডিয়া)

আয়ুর্বেদে রয়েছে এর গুণাগুণ৷ এই ধারার চিকিৎসকরা ফলটির অশেষ কদর করেন৷ অত্যন্ত যত্ন সহকারে গাছটির পরিচর্যা করেন তাঁরা৷ কারণ সেই বিষের ভয়৷ কেউ যদি ভুল করেও মুখে দিয়েছে তো তার আর রক্ষা নেই৷ অতএব কবিরাজ-হেকিমদের ঝুলিতেই তার যেন আসল কদর৷ তবে বীজগুলো গয়না, অলংকার তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। এই বীজ বা তার গুঁড়ো খেয়ে ফেললে বমি, গর্ভপাত সহ মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

সাবধান- লাল চোখের এই বিষ বীজের হাতছানি থেকে দূরেই থাকুন৷ তবে একে রক্ষা করুণ জীবনদায়ী ওষুধ তৈরির স্বার্থে৷