শেখর দুবে, কলকাতা: এবার প্রয়োজনের তুলনায় অধিক স্কুল ছুটির বিরোধিতা করছেন খোদ বাংলার শিক্ষক৷ সরকারি নিয়ম অনুসারে রাজ্যের স্কুলগুলিতে ২০ মে থেকে ৮ জুন অবধি গরমের ছুটি পড়ার কথা ছিল৷ কিন্তু ঘুর্ণিঝড় ফণী এবং অত্যধিক গরমের কারণের প্রায় ১৬ দিন আগেই ৩ মে রাজ্যের স্কুলগুলিতে ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার৷ পাশাপাশি প্রায় ৪৯ দিন বেড়েছে ছুটি৷ টানা প্রায় দু’মাস ছুটির বিরোধিতা করে হাওড়া জেলার ডিআই এবং ডিএমকে স্মারকলিপি জমা দিল বঙ্গীয় শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী সঙ্ঘ (ABRSM)৷

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ দাস কলকাতা২৪x৭-কে জানান, ‘‘ বেসরকারি স্কুলগুলোতে পড়ানো চলছে৷ দু’মাস ছুটি শুধু সরকারি স্কুলগুলোতে৷ এতে পড়াশুনোর ক্ষতি তো হচ্ছেই পাশাপাশি বন্ধ থাকছে মিড ডে মিল৷ বাংলার অনেক গ্রামে গরীব ছাত্রছাত্রীদের কাছে মিডডে মিল একমাত্র উপায় প্রয়োজনীয় নিউট্রেশন পাওয়ার৷ কিন্তু স্কুল বন্ধ তাই মিড ডে মিল পাচ্ছে না গরীব ছাত্রছাত্রীরা৷ সরকার কখনোই এরকমটা চাইবেন না৷’’

কয়েকদিন আগে সামুদ্রিক ঘুর্ণিঝড় ফণীর রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় তান্ডব চালানোর আশঙ্কায় তড়ঘড়ি করে স্কুল ছুটি দিয়েছিল রাজ্য সরকার৷ ফণীর কারণে পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় কোনও ক্ষতি হয়নি৷ কিন্তু বর্ধিত স্কুল ছুটি রয়েই গিয়েছে৷ এরআগে এতদিন ছুটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন সাধারণ মানুষ৷ এবার সেই প্রায় দু’মাস ছুটির বিরোধিতায় সুর চড়ালেন বাংলার শিক্ষকরাও৷ বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠনের পক্ষ থেকে হাওড়া জেলা ডিএম অফিস এবং ডিআইয়ের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন কয়েকজন শিক্ষক৷ সংগঠনটির দাবি, ‘‘এত বড় ছুটির পর সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হবে না৷ প্রভাব পড়বে সরকারি স্কুলের উপর নির্ভরশীল ছাত্রছাত্রদের পড়াশোনায়৷ তাই বাড়তি ছুটি কমিয়ে পূর্ব নির্ধারিত ছুটিই বহাল রাখা হোক৷’’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ বাবু আরও বলেন ২৩-মের পর তারা এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপালকেও স্মারকলিফি জমা দেবেন৷