নয়াদিল্লি: যেভাবে বিভিন্ন রাজ্য পুরোপুরি শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে সেটা কিন্তু আদৌ শ্রম সংস্কার নয়। আর এটা বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য নয় বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ কুমার গায়োঙ্গার। তার বক্তব্য, সরকার একটা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ দেবে যেখানে শ্রমিকদের অধিকার এবং সহজে ব্যবসার চাহিদার মধ্যে একটা ভারসাম্য থাকবে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এবার এমন বার্তাই দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী‌ ।

যদিও কেন্দ্রের মদতেই বিভিন্ন রাজ্য প্রচলিত শ্রম আইন তুলে দিতে বা শিথিল করেছিল। আর তা দেখে গর্জে ওঠে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলি। শুধু তাই নয় যে পথে সম্প্রতি ভারত হাঁটতে চেয়েছিল তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের (আইএলও) কাছে নালিশ জানায়। আর সেই অভিযোগ পাওয়ার পর আই এল ও উদ্বেগ প্রকাশ করে।‌ তাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়, যাতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই দেশের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে সেই কথা মনে করিয়ে যেন কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলিকে বার্তা দেওয়া হয়। ।

এদিকে আইএলও মতো আন্তর্জাতিক স্তর থেকে এমন বার্তা আসায় সরকার চাপে পড়েছে বলে মনে করছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলি। তারই জন্য এবার সরকার ব্যাকফুটে গিয় শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়ে অন্য সুরে কথা বলছে। তবে আবার শিল্পমহলের একাংশের বক্তব্য, ঘনঘন নীতি বদল করলে বিনিয়োগকারীরা এদেশে লগ্নি করতে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়বেন। তাই সরকারের উচিত ছিল আগেই সব পক্ষের মতামত নিয়ে শ্রম আইন বদল অথবা শিথিলের পথে হাঁটা। পাশাপাশি এক্ষেত্রে উল্লেখ্য,লকডাউন আর বেহাল অর্থনীতির দোহাই দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার যেভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল তাকে একেবারেই সমর্থন জানাননি খোদ শিল্পপতি আজিম প্রেমজি।

লকডাউনের জেরে সব রকম অর্থনৈতিক কার্যকলাপ স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি রাজ্য চেয়েছিল এবার থেকে প্রতিদিনের কাজের সময় ৮ ঘন্টা থেকে বাড়িয়ে ১২ ঘন্টা করার এবং সাপ্তাহিক কাজের সময় মোট ৪৮ ঘন্টা থেকে বাড়িয়ে ৭২ ঘন্টা করা সহ আরও কিছু পরিবর্তন। সেইসব রাজ্যগুলির মধ্যে যেমন বিজেপি শাসিত রাজ্য ছিল তেমনি আবার ছিল অন্য রাজনৈতিক দলের শাসিত রাজ্য। তা দেখে শ্রমিক ইউনিয়ন গুলি উদ্বেগ প্রকাশ করে -লকডাউনের দোহাই দিয়ে শ্রম আইনে যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে তা শ্রমিক বিরোধী। বাম এবং কংগ্রেস অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠন সহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনগুলি
এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিল। এমনকি আরএসএস অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠন বিএমএস এমন সরকারি উদ্যোগের বিরোধিতা করে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV