দুবাই: প্রথম তিন ম্যাচ জিতে অজিরা সিরিজ পকেটে পুড়ে নিয়েছিল আগেই। চতুর্থ ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ছিল ক্লিন সুইপের দিকে এক পা এগিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল সিরিজ হাতছাড়া হলেও ম্যাচ জিতে সিরিজে ব্যবধান কমিয়ে নেওয়া। সেই লক্ষ্যে ভালোই এগোচ্ছিল তারা। কিন্তু জোড়া শতরানও চতুর্থ ওয়ান ডে-তে হার আটকাতে পারল না পাকিস্তানের। দুবাইতে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬ রানে হারিয়ে নাটকীয় জয় তুলে নিল ইয়েলো ব্রিগেড।

দুবাইতে এদিন প্রথমে ব্যাট করে জয়ের জন্য পাকিস্তানকে ২৭৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। সৌজন্যে ষষ্ঠ উইকেটে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারের ১৩৪ রানের অনবদ্য পার্টনারশিপ। এর আগে দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ (৩৯) ও উসমান খোয়াজা (৬২) ভালো শুরু করলেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় একসময় ১৪০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অজিরা।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন ম্যাক্সওয়েল-ক্যারে জুটি। নিশ্চিত শতরান থেকে মাত্র দু’রান দূরে দাঁড়িয়ে রান আউটের শিকার হন বিধ্বংসী ম্যাক্সওয়েল। তাঁর ৯৮ রান আসে মাত্র ৮২ বল খেলে। পাশাপাশি ৬৭ বলে ক্যারের গুরুত্বপূর্ণ ৫৫ রান অস্ট্রেলিয়াকে পৌঁছে দেয় ২৭৭ রানে।

প্রত্যুত্তরে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানে সান মাসুদের উইকেট হারায় পাকিস্তান। ২৫ রানে সাজঘরে ফেরেন হ্যারিস সোহেল। কিন্তু তৃতীয় উইকেটে আবিদ আলি ও মহম্মদ রিজওয়ানের ১৪৪ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচ দখলে এনে দেয় পাকিস্তানের। দু’জনেই শতরান করেন। অ্যাডাম জাম্পার ডেলিভারিতে ঠকে যাওয়ার আগে অভিষেকেই ১১২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে যান আবিদ আলি।

১০২ বলে ১০৪ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মহম্মদ রিজওয়ানও। কিন্তু তৃতীয় উইকেটের পতন হতেই কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে থাকে পাক ব্যাটিং লাইন আপ। শেষ ছয় ব্যাটসম্যানের কেউই দু’অঙ্কের রানে পৌছতে পারেননি। অজি বোলারদের দুরন্ত কামব্যাকে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করে পাকিস্তান। ৮ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যমাত্রা থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থমকে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। ওয়ান ডে ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থবার রান তাড়া করতে নেমে জোড়া শতরানেও জয় হাতছাড়া করল কোনও দল।

ম্যাচ জিতে অজি দলনায়ক ফিঞ্চ জানান, ‘বল হাতে ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে বোলাররা। উইকেট কিছুটা স্লো থাকায় আমরা জানতাম দ্রুত কয়েকটি উইকেট ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে। বল হাতে সেটাই করে দেখিয়েছে বোলাররা।’ পাশাপাশি দুই পাক ব্যাটসম্যানেরও প্রশংসা করেন ফিঞ্চ।