স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রায় দেড়ঘণ্টা ধরে তৃণমূল সাংসদ তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরাকে জেরা করার পর, ‘শান্তিনিকেতন’ থেকে বেরোল সিবিআইয়ের প্রতিনিধি দল৷ রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁরা সন্তুষ্ট কিনা সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি সিবিআই৷

সকাল ১১টা বেজে ৩৫ নাগাদ মঙ্গলবার হরিশ মুখার্জি রোডে তাঁদের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এ পৌঁছন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক। সূত্রের খবর, এদিন দুপুরে নিজাম প্যালেসে একটি রিভিউ মিটিং রয়েছে সিবিআইয়ের৷ ওই বৈঠকের পর কী কী বিষয়ে জেরা করা হল এবং তার জবাব, রিপোর্ট আকারে দিল্লিতে পাঠাবেন তাঁরা৷

মুখ্যমন্ত্রী বেরোনোর চার মিনিটের মধ্যেই সিবিআই অফিসাররা প্রবেশ করলেন অভিষেকের বাড়িতে৷ এদিন সাড়ে এগারোটা নাগাদ অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নবান্ন যাওয়ার পথে সেখানে ঢোকেন তিনি। মিনিট দশেকের মতো ভাইপো অভিষেকের বাড়িতে ছিলেন তিনি৷ বেরনোর সময় হাত ধরে গাড়ি পর্যন্ত তাঁকে এগিয়ে দিতে দেখা যায় অভিষেক-কন্যাকে। তাকে ভিতরে পাঠিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যান মমতা। তার পরেই সিবিআইয়ের গাড়ি এসে পৌঁছয় সেখানে।মনে করা হচ্ছে, অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীর মনোবল বাড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী দেখা করতে গিয়েছিলেন৷

রুজিরাকে জেরা করতে আইনজীবী-সহ শান্তিনিকেতনে মোট ৯ জন ছিলেন। সূত্রের খবর,বিশেষ তদন্তকারী দলে ছিলেন, আইনি উপদেষ্টা দল (লিগ্যাল অ্যাডভাইসরি টিম)-এর ৩ আইনজীবী। তাঁদের মধ্যে ২ জন দিল্লির এবং ১ জন কলকাতার। অতিরিক্ত সুপারিনটেন্ডেন্টের নেতৃত্বে সিবিআইয়ের ৬ জন অফিসার। এর মধ্যে ২ জন মহিলা। ছিল ৮ পাতার প্রশ্নপত্রও। রুজিরার বয়ান ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

রবিবার রুজিরাকে ফৌজদারি আইনের ১৬০ ধারায় নোটিস পাঠায় সিবিআই। ওই দিন সটান ‘শান্তিনিকেতন’-এও হাজির হয় গোয়েন্দাদের একটি দল। কিন্তু সেই সময় রুজিরা বা অভিষেক কেউই বাড়িতে ছিলেন না। তার পর সোমবার নিজে ই-মেলে সিবিআই-কে চিঠি পাঠান রুজিরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ৩টের মধ্যে দেখা করতে পারবেন বলে জানান।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, কয়লা-কাণ্ডে অভিষেকের স্ত্রী-র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এ ব্যাপারে রুজিরার বয়ান চান তাঁরা। রুজিরার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ, তা স্পষ্ট ভাবে জানাননি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বরং রুজিরাকে ‘সাক্ষী’ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তবে তাঁর সঙ্গে কেন দেখা করতে চাইছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা, তা তাঁর বোধগম্য হচ্ছে না, তবে তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে রাজি বলে চিঠিতে জানিয়েছেন রুজিরা।

সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্যালিকা মেনকা গম্ভীরকে কয়লাকাণ্ডে বিদেশের অ্যাকাউন্টে আর্থিক লেনদেন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিবিআই আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, মেনকা ব্যাংকক অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এছাড়া তাঁর লন্ডনের অ্যাকাউন্টেও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন নিয়ে মেনকাকে প্রশ্ন করা হয়। বিদেশের অ্যাকাউন্টে আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে ব্যবসা, একাধিক বিষয়ে মেনকা গম্ভীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিবিআই আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, তাঁর থেকে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন অফিসাররা। তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার অভিষেকের স্ত্রী রুজিরারও বয়ান রেকর্ড করা হবে। তারপর দুটি বয়ান খতিয়ে দেখবেন সিবিআই আধিকারিকরা। যদি দুটি বয়ানো অসঙ্গতি পাওয়া যায় তবে সেই মতো পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে খবর৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।