স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ২ কেজি সোনা সহ ধরা পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী। অবশেষে সেই ইস্যুতে মুখ খুললেন সাংসদ তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘটনা নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করা হয় তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপি ও বাম নেতারা এই ইস্যুকে প্রকাশ্যে আনতে শুরু করেন। সম্প্রতি শুল্ক দফতরের তরফে একটি এফআইআর হয়। এরপরই মুখ খুললেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। রবিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই ইস্যু নিয়ে কথা বলেন অভিষেক।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে একটি চিঠি সামনে আনেন অভিষেক। শুল্ক দফরের ওই চিঠির উপর ‘সিক্রেট’ বলে লেখা ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এফআইআরের খসড়া এসেছে দিল্লি থেকে। চিঠিটি পড়ে অভিষেক বলেন, এফআইআর হয়েছে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রকের Central Board of Indirect Taxes and Customs-এর নির্দেশে। অভিষেক বলেন, দিল্লির চাপেই এই এফআইআর করা হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল যে থাইল্যান্ড থেকে ২ কেজি সোনা নিয়ে ফিরছিলেন অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাস্টমসের চেকিং-এ বাধা দেওয়ার আভিযোগে এফআইআর করে শুল্ক দফতর। শনিবার হয় সেই এফআইআর। এই ইস্যু নিয়েই এদিন কাস্টমসের বিরুদ্ধে একাধিক প্রশ্ন তোলেন অভিষেক।

রবিবার অভিষেক ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চান। বলেন, ‘সাহস থাকলে, সিসিটিভি ফুটেজ এনে আমাকে দেখান।’ তিনি জানা, ১৫ তারিখ রাতে ১২টা ৪০ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তাঁর স্ত্রী রুজিরা। ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিমানবন্দরে। ওই সময়ের মধ্যেকার ফুটেজ দেখতে চেয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘২ কেজি কেন, ২ গ্রাম সোনা পাচার করা হচ্ছিল, ফুটেজে দেখা পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’

অভিষেক জানান, এফআইআরে লেখা আছে, প্রোফাইলের ভিত্তিতে চিহ্নত করা হয় রুজিরা ও তাঁর সঙ্গীকে। অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন, ‘প্রোফাইল’ শব্দের মানে কি? তাহলে কি তাঁর স্ত্রী বলেই এই অভিযোগ? প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন গেরুয়া শিবিরের দিকেও। বলেন, ‘২ কেজি সোনা যদি আনা হচ্ছিল, তাহলে তা বাজেয়াপ্ত করা হল না কেন? চৌকিদার কী ঘুমোচ্ছিলেন?’

শুল্ক দফতরের অভিযোগ, তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে ও হ্যারাস করা হয়েছে। এর জবাবে অভিষেক বলেন, কাজে বাধা দেওয়া হলে কেন সিআইএসএফ-কে ডাকা হল না। এফআইআর করতে সাতদিন লাগল কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন সাংসদ।