বাগদা, উত্তর ২৪ পরগনা : বাগদার সভায় দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদীর তীব্র সমালোচনা করে রাস্তা ও হেলেঞ্চা ক্রসিংয়ে হরিচাঁদ ঠাকুরের মূর্তি বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূলের জন্য ভোট চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বাগদার জনসভা থেকে তিনি বলেন, “এখানে তো বিজেপিকে জিতিয়েছিলেন লোকসভা নির্বাচনে। কিন্তু ভারতীয় জানাটা পার্টির সেই সাংসদ লোকসভায় গিয়ে কোনওদিন বাগদার কথা বলেছেন? বলুন তো আপনাদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী , মুখ্যমন্ত্রী তৈরী হয়েছেন। মতুযারাই যদি নাগরিক না হয় তাহলে কেন্দ্রের সরকারটাই অবৈধ। আপনারা কতদিন বাগড়ায় থাকছেন? দিল্লির কেউ বিধান দেবে আপনি নাগরিক কী না? আপনারা জেনে রাখুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন। আপনারা ভারতের নাগরিক। নরেন্দ্র মোদী ৩০ মিনিট সভা করলে শুধুই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাপবাপান্ত করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ক্ষমতায় এলে বিনা পয়সায় রেশন আর বিজেপি রাজ্যে এলে বিনা পয়সায় ভাষণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়ে কথা রাখে। নরেন্দ্র মোদী সর্দার প্যাটেলের নামের স্টেডিয়ামের নাম বদলে মোদির নামে করেছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ঠাকুরনগর মোদী নাগর হয়ে যাবে। তাই ঠিক করতে হবে কাকে ভোট দেবেন।”

এদিন সি এ এ নিয়ে অভিষেক বলেন, “নাগরিকত্ব নিয়ে অসত্য কথা বলছেন কেন্দ্রের বিজেপি নেতারা। সংসদে নাগরিকত্ব বিল পাস করিয়ে এখন বলছে করোনার টিকা দেওয়া শেষ হলেই সি এ এ হবে। আরে করোনার টিকা দান শেষ হবে কবে? ১৩০ কোটির দেশে এই কাজ এতো দ্রুত করা সম্ভব? তাই বলছি বিজেপি জিতলে আপনাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে। তাই আমি বাগদার মানুষকে বলছি তৃণমূলকে জেতাতে হবে। ইটা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করা নয়। এই নির্বাচন আসলে বাংলা দিল্লি, গুজরাটের দখলে থাকবে না বাংলার নিজের মানুষের দখলে থাকবে তার লড়াই । আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনারা উন্নয়নের সঙ্গে থাকবেন না নৈরাজ্যের সঙ্গে থাকবেন।”

বিজেপি রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে রাজ্য চালাতে চাইছে। আপনার জীবনের সিধ্যান্ত আপনাকেই নিতে হবে। বহিরাগত নেতা না নিজের মেয়েকেই চান সেটা আপনাদের ঠিক করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন সেটা করেন। নরেন্দ্র মোদী যা বলেন তা করেন না। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোদীর আসল পার্থক্য। কন্যাশ্রীর টাকা, রূপশ্রীর টাকা সবার ব্যাঙ্কে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

এন আর সি প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, অসমে ভোট হয়ে গেছে। আবার ১৯ লক্ষ মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে বলে নোটিশ দিয়েছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যতদিন ক্ষমতায় আছি কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে দেব না। নারী নির্যাতনে উত্তরপ্রদেশ প্রথমে,আর সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় আসছেন জ্ঞান দিতে।”

আট দফায় নির্বাচন কেন? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন বাকি দফার নির্বাচন এক দফায় হোক। না হলে যত দফা নির্বাচন হবে তত সভা হবে, করোনা বাড়বে। বিজেপি চাইছে না এক দফায় বাকি নির্বাচনটা হয়ে যাক। এদিকে ১৩০ কোটির দেশে ১ কোটি টিকা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। বাকি টিকা বিদেশে টিকা পাঠাচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী চান দেশের, রাজ্যের মানুষ মারা যাক। বিদেশে টিকা পাঠিয়ে মোদী চাইছেন সারা বিশ্বে মোদীর নাম মুখে মুখে ঘুরুক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন সেটা করেন। আর মোদী ১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছে আপনাদের ব্যাঙ্কে ? দিল্লি ও গুজরতের বশ্যতা বাঙালিরা স্বীকার করে না বলেই বাঙালিদের গুলি করে মারা হচ্ছে। সায়ন্তন বসু বলেছিলেন বুকে লক্ষ্য করে গুলি করুন। ৬ মাস পর ঠিক তাই হয়েছে শীতলকুচিতে।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.