নয়াদিল্লি: ১৩ বছর আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই অনুপ্রবেশ রুখতে সংসদে সরব হয়েছিলেন। তৃণমূলের এনআরসি বিরোধীতাকে কটাক্ষ করে এমনই দাবি করছে বিজেপি।কিন্তু বিজেপির এই দাবি মানতে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদে দাঁড়িয়েই এব্যাপারে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।

অনুপ্রবেশকারী নিয়ে লোকসভায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বক্তব্যকেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ২০০৫ সালে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, রাজ্যের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশিদের নাম উঠে যাচ্ছে।

রাজ্যের অবস্থাকে বিপর্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে এ বিষয়ে লোকসভায় আলোচনার দাবি করেছিলেন তিনি। তাঁর আবেদন খারিজ কয়ে দেওয়ায় তিনি অধ্যক্ষের আসনের দিকে উঠে যান এবং ভোটার তালিকা ছুড়ে দিয়ে নাটকীয় ভাবে কক্ষ ত্যাগ করেন। বিজেপির প্রশ্ন, ১৩ বছর পরে এনআরসি ইস্যুতে এখন কেন তিনি সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করে সবচেয়ে বেশি সরব?

গেরুয়া শিবিরের এই প্রচারকে অপপ্রচার বলে দাবি করছেন অভিষেক। সোমবার নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতা করার পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করছি। ২০০৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই ভাষণের কপি খুঁজে বার করুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে অনুপ্রবেশকারী নিয়ে কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, ভুয়ো ভোটার পরিচয় পত্র নিয়ে।”

লোকসভায় অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের প্রস্তাব থাকলেও শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমারের উদ্বাস্তুদের কথা ভাবা হয়নি কেন? শ্রীলঙ্কায় তামিল সংখ্যালঘুরা লাগাতার নির্যাতিত হচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। মায়ানমারেও একই পরিস্থিতি। সেখানেও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলছে। তাহলে তারা বাদ পড়ল কেন?

নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে মমতা সরকারের নীতির পার্থক্য তুলে ধরতে অভিষেক বলেন, “আমাদের ভারতের ধারণায় ইতিবাচক মানসিকতা রয়েছে। আপনাদের ভারতের ধারণা সন্দেহে ভরপুর। আমরা বিশ্বাস করি ভালবাসা, শান্তি ও সম্প্রীতিতে। আপনাদের বিশ্বাস গণপিটুনি, হত্যা ও ঘৃণায়। আমাদের ভারত আশাবাদী, উন্নয়নের জন্য মুখিয়ে থাকে। আপনারা ধ্বংসের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা বিভাজনে বিশ্বাস করেন। আমরা চেষ্টা করছি সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে।”