স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশে যেসব আইনজীবীদের খুব পছন্দ করেন, তাঁদের মধ্যে প্রথমেই আসবে অভিষেক মনু সিংভির নাম৷ মনু সিংভি ব্রিগেড শনিবার সব থেক যে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি বলেছেন, তা হল, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট ভাগ হওয়া চলবে না৷ সিংভি বলেন, ‘‘মনে রাখতে হবে, দেশে মোদী বিরোধী ভোট বিভাজন আটকাতে হবে৷ উত্তরপ্রদেশের ফুলপুর, গোরখপুরের উদাহরণ দেখুন৷ ওই ভাবেই ভোট বিভাজন আটকাতে হবে৷ ’’

সিংভির বক্তব্য, ‘‘আজ মানুষ ২২ পার্টির রামধনু দেখছে৷ এই রামধনুর রং আলাদা-আলাদা৷ বিচার-ভাষাও আলাদা৷ কিন্তু বৃষ্টির পর হাওয়ায় মেঘ সরে দিয়ে এই রামধনু দেখা যাচ্ছে৷ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ৷ আজ এক নতুন স্লোগান উঠেছে – জনতাকি পুকার, নেহি চাহিয়ে মোদী সরকার …৷’’

সিংভি বলেন, ‘‘দেশে প্রতিশোধের রাজনীতি চলছে৷ বিহারের উদাহরণ দিচ্ছি, লালু প্রসাদজির দলের মিছিল হল৷ ওই মিছিলের পরই আয়কর হানা হয়েছে৷ এদিকে অমিত শাহ ১০০ মিছিল করেছে৷ কোনও আয়কর হানা হয়নি৷ মোদী-শাহের স্পষ্ট নীতি, বিরোধীদের মধ্যে ঝামেলা বাধানো৷ পশ্চিমবঙ্গে রথযাত্রার প্রসঙ্গে আসি৷ ভাগিস্য, কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট এই যাত্রার অনুমতি দেয়নি৷ এদিকে এই যাত্রার নামও বদলে গিয়েছে৷ তবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য, এই যাত্রা অশুভ৷ প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপির সভাপতি মহাজোটকে নিয়ে মজা করছেন৷ কাশ্মীরে ওরা যে জোট বানিয়েছিলেন , তা বিশ্বের অনৈতিক জোটের মধ্যে অন্যতম৷ জম্মুতে একরকম সরকার চলেছে৷ কাশ্মীরে অন্যরকম সরকার চলেছে৷’’

পশ্চিমবঙ্গ থেকে কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি৷ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের সমর্থনেই রাজ্য সভায় গিয়েছেন সিংভি৷ রাজ্য সরকারের হয়ে মামলা লড়েন৷ পঞ্চায়েত এবং রথযাত্রার মামলায় রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সুপ্রিম কোর্টে৷ বিজেপির রথ আটকে মমতার কাছে সিংভি এখন ‘‘ব্লু-আইড বয়৷’’

বিজেপিকে শর্ত সাপেক্ষে রথযাত্রা করার অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চ৷ শুক্রবার সকালেই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার৷ আদালতের এই যুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রথের সারথি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অভিষেক মনু সিংভি৷ তিনিই শেষ হাসি হাসিয়েছেন মমতাকে৷ শনিবার ব্রিগেডের মঞ্চে ভালো বক্তব্য রেখে আবার খুশি করেছেন দিল্লির এই আইনজীবী৷