কলকাতা: গত কয়েক বছরে বাংলার রাজনীতিতে অভিষেক নামটা ক্রমশই প্রকট হয়ে উঠেছে। লোকসভা ভোটের আগে এই অভিষেককে কটাক্ষ করে ‘পিসি-ভাইপো’ বলে বারবার আক্রমণ করে গিয়েছে বিজেপি। এমনকি এই ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই দলের অন্দরে অনেক শীর্ষ নেতারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও জানা যায়। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। তাই বলে নোবেলজয়ী হিসেবে সেই আদরের ভাইপোর নাম বলে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী!

সদ্য বাংলার ছেলে নোবেল পেয়েছেন। অর্থনীতিতে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল পাওয়ার খবরে কলকাতা এখন মশগুল। কবে তিনি কলকাতায় আসবেন, তারই অপেক্ষায় দিন গুনছে শহর। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসলেন, ‘অভিষেক বাবু পেলেন।’

এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা গর্বিত। এর আগে বাংলা থেকে নোবেল পেয়েছেন অমর্ত্য সেন, মাদার টেরেসা। এবার অভিষেকবাবু পেলেন।’

যদিও মুখ্যমন্ত্রীর ‘স্লিপ অফ টাং’ নতুন কিছু নয়। তাই ফের একবার ভাইরাল তিনি। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামটা তো ভুল বললেন। তাই বলে ভাইপো অভিষেকের নাম!

বুধবারই বিকেল ৫টা নাগাদ হিন্দুস্থান পার্কে নোবেলজয়ীর বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। এ ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে অভিজিতের মা-কে একটি গানও গেয়ে শোনান ইন্দ্রনীল- “প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে মোরে আরও আরও দাও প্রাণ।”

পরে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরোনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গরিব মানুষকে নিয়ে আমরাও অনেক কাজ করেছি। স্বাস্থ্য সাথী, কন্যাশ্রী ইত্যাদি। এগুলো সব মানুষকে জানাতে হবে”। এর পরেই পাশে দাঁড়ানো নির্মলা দেবীকে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, “মাসিমারও অনেক পরামর্শ রয়েছে। বিশেষ করে কৃষির ব্যাপারে ওনার আগ্রহ রয়েছে। আমি আলাপনকে বলেছি ওনার সঙ্গে সবিস্তারে কথা বলতে। তার পর মাসিমা ও তাঁর টিম যদি আমাদের সাহায্য করতে পারেন তা হলে ভাল কথা।”

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “অভিজিৎ আমাদের গর্ব। উনি বাংলাকে কী ভাবে সাহায্য করতে পারেন সে ব্যাপারে আমরা কথা বলব। ওনার সুবিধা মতো যদি সময় বের করতে পারেন তা হলে ভাল হয়। উল্লেখ্য, শুধু অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা নির্মলাদেবীও অর্থনীতির একজন গবেষক।