স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গালোয়ানে ভারতীয় সেনার ওপর হামলার পাল্টা হিসেবে চিনের টিকটক সহ ৫৯ টি অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। চিনকে জবাব দেওয়ার নামে মোদীর এই উদ্যোগকে ‘ভন্ডামি’ বলে মঙ্গলবার তোপ দাগলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেইসঙ্গে তিনি জানালেন, খোদ মোদীজি চিনা অ্যাপেই গালোয়ানের শহিদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছিলেন। সোমবার টিকটক, ইউসি ব্রাউজার, শেয়ার-ইট, উই-চ্যাট, ক্যামস্ক্যানার সমেত ৫৯টি মোবাইল অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্র। তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের দাবি, ভারতের সুরক্ষা, সংহতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং এ দেশের সাধারণ মানুষের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আইনের ৬৯ক ধারায় এই সিদ্ধান্ত।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীকে এক হাত নিয়ে টুইটারে সরব হয়ে ওঠেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন টুইট করে তিনি লেখেন, ‘কিছুদিন আগে মোদীজিকে দেখা গিয়েছিল গালোয়ানে শহিদ ভারতীয় জওয়ানদের চিনা অ্যাপে শ্রদ্ধা জানাতে। চিনকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার নামে এবার সেই অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। অথচ চিনা অনুপ্রবেশের কথা তিনি স্বীকার করতে রাজি নন। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর এখানে ভন্ডামি রীতিমত হাস্যকর।’ শুধু তাই নয়, চিনকে ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার নাম করে এই কাজ করেছে কেন্দ্র। অভিযোগ যুবরাজের।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সঙ্গে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গানের শহীদ ভারতীয় জওয়ানদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন। আর এই ভিডিওতে রয়েছে টিকটকের লোগো যাকে বর্তমানে নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

প্রসঙ্গত, বহু অ্যাপের মাধ্যমে চিন তথ্য সংগ্রহ করে বলে অভিযোগ উঠেছে বারে বারে। কিন্তু বহুল ব্যবহৃত চিনা অ্যাপের গায়ে এত দিন হাত পড়েনি। গালওয়ানের ঘটনার পর কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, অ্যাপ ব্যবহার না করার বিষয়টি কিভাবে নিশ্চিত করবে সরকার ?

শোনা যাচ্ছে, প্রথমত, গুগল প্লে কিংবা অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরের থেকে নতুন করে ডাউনলোড ‘ব্লক’ করতে বলা হবে। আর দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থাগুলিকে বলা হবে, ওই অ্যাপগুলির জন্য নেট না-জোগাতে।

প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র চিনা অ্যাপ বন্ধ করাই যথেষ্ট জবাব নয়, কড়া জবাব দেওয়ার কথা ভাবতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।

সোমবারই ৫৯টি অ্যাপ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। এরপর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সীমান্তে চিনের আগ্রাসী কার্যকলাপে কেন্দ্রীয় সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে, তাতেই পূর্ণ সমর্থন থাকবে রাজ্য সরকারের।

তাঁর কথায়, চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই একটা কড়া জবাব দেওয়া হোক। কীভাবে জবাব দেওয়া হবে, তা সরকারই সিদ্ধান্ত নিক।’ তাঁর মতে, একটা যোগ্য জবাব দেওয়া না হলে সাধারণ মানুষ সরকারের উপর প্রশ্ন তুলবে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ