স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ধ্বংসাত্মক আন্দোলন চলছে বাংলার বিভিন্ন জেলায়। বিক্ষোভ ও হিংসা এতটাই তীব্র আকার নিয়েছে যে কিছু জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷

মেটিয়াবুরুজে ৬০ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘুর মানুষের বাস। রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব আইন সংশোধনীর বিরোধিতায় অধিকাংশই হয়েছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায়। বুধবার মেটিয়াবুরুজের মানুষকে শপথ পাঠ করিয়ে অভিষেক বললেন, “শপথ করুন আইন হাতে নেবেন না। আমি বলছি কোনওদিন এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন রাজ্যে হতে দেব না। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ হলেও রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়”।

সোমবার এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন বিরোধী মিছিল শুরু করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, আন্দোলন করতে হবে গণতান্ত্রিক ভাবে। শান্তি বজায় রাখতে হবে। কোনওরকম অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হলে সরকার ছেড়ে কথা বলবে না। কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ ব্যাপারে কারও দল-মত বিচার করা হবে না। এদিন সেই বার্তাই দিয়েছেন অভিষেক৷

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন,”পোশাক দেখেই বোঝা যাচ্ছে কারা হিংসা ছড়াচ্ছে। আমিও টিভিতে বিক্ষোভের দৃশ্য দেখেছি। তাতে ভারতবাসী নিশ্চিত হয়েছেন মোদী ও সংসদ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এনে সঠিক কাজ করেছে।” প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেছেন, ”প্রধানমন্ত্রী কি খারাপটা বলেছেন? উনি নিজের পক্ষ রেখেছেন। তার সমালোচনা বা প্রশংসা হতেই পারে। এমতাবস্থায় সংখ্যালঘু এলাকায় দাঁড়িয়ে অভিষেকের শপথবাক্য পাঠ অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।”

এদিন অমিত শাহর উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, “আমাকে ফাঁসি দিলেও আমি এখানে কিছুতেই এনআরসি ও নাগরিক আইন করতে দেব না। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ব। আও দেখে জারা কিতনা হ্য়ায় দম।” নাম না করে আসাউদ্দিন ওয়াইসির দলকেও আক্রমণ করেছেন নেত্রীর ভাইপো। বলেন, “যারা নিজেরা নিজেদের জায়গা থেকে বিজেপি তাড়াতে পারছে না, তারা কী করবে!”

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।