কলকাতা:  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারে খুশির খবর। ফের বাবা হলেন তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক মেয়ের পর এবার ছেলে হল তাঁর। সন্তানের সেই ছবি সামনে আনলেন অভিষেক নিজেই। ছবিতে স্নেহের স্পর্শ বাবা-ছেলের। সেই ছবি অভিষেক তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে দিয়ে সবার কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরেই পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছে অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা। এদিন বিকেলেই পুত্র সন্তানের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তৃণমূল সাংসদ। লিখেছেন, ‘আমাদের পরিবারে নতুন সদস্যকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি ও রুজিরা। আমার অনুভূতি ভাষায় ব্যক্ত করতে পারব না।’

অভিষেকের এক কন্যাসন্তানও রয়েছে। তার নাম আজানিয়া। পিসি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আজানিয়ার নামকরণ করেছেন বলে শোনা যায়। ফেসবুকেই সেই নাম জানিয়েছেন তিনি।

লোকসভা নির্বাচনের মুখেই এক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা। সোনা পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেইসময় বিষয়টা নিয়ে যখন জোর আলোচনা শুরু হয়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে রুজিরা গর্ভবতী, ওকে নিয়ে রাজনীতি যেন না করা হয়। যদিও সেই অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ চলে বেশ কিছুদিন ধরেই।

রাতে ১২টা ৪০ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তাঁর স্ত্রী রুজিরা। ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিমানবন্দরে। ২ কেজি সোনা পাচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল রুজিরার বিরুদ্ধে।

অভিষেকের স্ত্রী’র বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর সেই সিজার লিস্ট চেক করা হয়। কিন্তু সেই সিজার লিস্ট এ কোন সোনার উল্লেখ নেই বলেই জানা যায়।

বিমানবন্দরে সোনা-কাণ্ডের পর ভারত সরকারকে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য নিয়ে শুরু হয় নয়া বিতর্ক। ২৯ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপসচিব মনোজ কুমার ঝা রুজিরা নারুলার কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ঠিকানায় ওই নোটিশ পাঠিয়েছেন। ওই নোটিশে বলা হয়, ২০১০ সালের ৮ জানুয়ারি ব্যংককের ভারতীয় দূতাবাস রুজিরা নারুলাকে যে পারসন অব ইন্ডিয়ান অরিজিন (পিআইও) কার্ড দেয়, সেই কার্ডের আবেদনপত্রে রুজিরা তাঁর বাবার নাম লিখেছিলেন নিফন নারুলা। কিন্তু ২০১৩ সালে রুজিরা যখন কলকাতায় হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী তাঁর বিয়ের রেজিস্ট্রেশন (নথিভুক্তিকরণ)-র নথি জমা দেন, সেই নথিতে রুজিরার বাবার নাম গুরশরণ সিংহ আহুজা লেখা ছিল এবং ঠিকানা ছিল দিল্লির রাজৌরি গার্ডেন।