কলকাতা: দিল্লি থেকে ১ বছরের মধ্যে মুছে যাবে জনবিরোধী মোদী সরকার৷ এদের পতন এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা৷ মহেশতলার উপনির্বাচন দিয়ে মহালয়ার সূচনা হয়েছে৷ ২০১৯ সালে দিল্লিতে বিজেপিকে মুছে দশমী পালন করা হবে৷ বুধবার হাজরা মোড়ের প্রতিবাদ সভা থেকে এমনই জোড়ালো দাবি করলেন তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷

ধারাবাহিকভাবে পেট্রোপণ্য ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বুধবার যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে তৃণমূল৷ মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সহ অন্যান্যরা৷ মিছিল শেষে হাজরা মোড়ে সভা হয়৷ সেখানেই মোদী সরকারকে তুলোধনা করেন অভিষেক৷ তাঁর কথায়, ‘‘ব্যাংকে ৫ হাজার টাকা না থাকলে ব্যালেন্স কাটছে আর যারা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা চুরি করে দেশকে সর্বশান্ত করে পালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না৷ তাহলে কিসের গরিব দরদি সরকার?’’

অভিযোগ করেছেন, ‘‘বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরি হবে বলেছিল৷ হয়নি৷ বেকারত্ব বাড়ছে৷ পাকিস্তানকে জব্দ করা যায়নি৷ দুর্নীতি মেটেনি৷ মানুষের অধিকার রক্ষা হয়নি৷’’ এরপরই আগামী দিনে দিল্লি থেকে নরেন্দ্র মোদীর সরকার মুছে দেওয়ার জন্য উপস্থিত জনতাকে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হওয়ার ডাক দেন তিনি৷ দলের যুবরাজের কথায়, ‘‘নরেন্দ্র মোদীর সরকার কি বলছে, ব্যাংকে টাকা রাখলে যেকোনওদিন আমরা আত্মসাৎ করে নিতে পারি৷ তাহলে বাড়িতে রাখলে সমস্যা বাড়ল, আবার ব্যাংকে রাখলে গেল৷ এই হচ্ছে বিজপি সরকারের নীতি৷ এদের এই জনবিরোধী নীতি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে৷ তাই জনস্বার্থ বিরোধী এই সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের ধারাবাহিকভাবে, প্রয়োজনে প্রতিদিন আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে৷ তা না হলে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করা যাবে না৷’’

আধার কার্ড প্রসঙ্গেও কেন্দ্রের সরকারের তীব্র সমালোচনা করে কটাক্ষের সুরে বলেছেন, ‘‘হাঁটতে গেলে আধার, বসতে গেলে আধার, সব ক্ষেত্রেই আধার কার্ড৷ ভারতে থাকতে গেলে আধার নাও, আর ভারতে থেকে পালাতে গেলে ব্যাংকের টাকা কারচুপি করে দেশকে সর্বশান্ত করে পালিয়ে যাও- এই হচ্ছে এই সরকারের নীতি৷ আমার বাড়িতে কি রান্না হবে, আমি কি খাবো – সব কিছুরই নিদান দিচ্ছে মোদীর সরকার৷’’

বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘২৯টি রাজ্যের মধ্যে অনেক রাজ্য গেরুয়া হতে পারে৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে অর্থের বিনিময়ে বাংলাকে গেরুয়া করা যাবে না৷’’ এরপরই উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে অভিষেক বলেন, ‘‘সব থেকে বড় অবদান এই সামনে যাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন৷ আপনারা যদি না থাকতেন, তাহলে আমরা কেউ এমএলএ, এমপি হয়ে মানুষের হয়ে কাজ করার সুযোগ পেতাম না৷ সরকার গঠন হত না৷ যেভাবে ভারতকে সর্বশান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে তাকে রুখতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সংঘবদ্ধভাবে রাস্তায় নামতে হবে৷’’ দাবি করেছেন, ‘‘আমাদের একজনই নেত্রী৷ বাকি সবাই কর্মী৷ এখানে দু’নম্বর, তিন নম্বর বলে কিছু হয় না৷ আপনারাও কর্মী, আমিও কর্মী৷’’ যা শুনে হাততালিতে ফেটে পড়েছে সভাস্থল৷