কূলতলিঃ  রবিবার কুলতলির জনসভায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বক্তব্যের শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক মেজাজে ছিলেন অভিষেক। শুরুতেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপমান করা হয়েছে তাঁর তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

অভিষেক বলেন, একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা হয়েছে। আগামী ভোটে মানুষ ওদের অর্থাৎ বিজেপিকে জবাব দেবে বলেই দাবি করেন ডায়মন্ডহারবারের এই সাংসদ।

ভিক্টোরিয়ায় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি ওঠা প্রসঙ্গে অভিষেক আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বক্তব্য রাখতে বাধা দেওয়া হয়। ভিক্টোরিয়ায় তেমনই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। বক্তৃতা না দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা হয়েছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পর জবাব পেয়েছিলেন। তাতেও তাদের শিক্ষা হয়নি। নেতাজিকে যারা অপমান করল, তাদের শিক্ষা দেবেন। যেন কোথাও মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে। ধর্মকে নিয়ে এসে বাংলাকে কলুষিত করার চেষ্টা হচ্ছে। বাংলার মানুষের সঙ্গে জুমলা পার্টির লড়াই হবে। মানুষই তাদের জবাব দেবেন।’

বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক আরও বলেন ‘এদের বুকে সাভারকর আর নাথুরাম, আমাদের বুকে নেতাজি আর ক্ষুদিরাম।’

ভিক্টোরিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার সকাল থেকেই প্রতিবাদ, বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। কোথাও প্রতিবাদ মিছিল, কোথাও রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা৷ রবিবার সকালেই টুইট করেন মহুয়া মৈত্র। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। একই সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেন মহুয়া মৈত্র।

তৃণমূল সাংসদের ট্যুইট, একঝাঁক বানরের মধ্যে একা সিংহির মতো দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি। মমতাদির দলের সদস্য হিসেবে এতটা গর্বিত আগে হইনি। ট্যুইট লেখেন মহুয়া মৈত্র। পাশাপাশি ব্রাত্য বসু শনিবারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, “বাঙালি কাল অসভ্যতা দেখল। সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গে বাংলার কি সম্পর্ক! এই ঘটনা নক্কারজনক।”

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধুমাত্র বিতর্ক হচ্ছে বলে মনে করেন বিজেপি নেতারা। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেছেন, বক্তৃতা বয়কট করে নেতাজিকেই অপমান করেছেন মমতা। তিনি বলেছেন, অনুষ্ঠানে নানা ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। কেউ জয় হিন্দ বলছিলেন, কেউ বন্দেমারতম, আবার জয় শ্রী রাম স্লোগানও দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সামনে এই স্লোগানে আপত্তির কী তা বোধগম্য নয়।

বিজয়বর্গীয় বলেছেন, মমতার আগে থেকেই অ্যাজেন্ডা ছিল। তিনি মঞ্চের অপব্যবহার করে কিছু সংখ্যক মানুষকে খুশি করতে চেয়েছেন। ভারতে রাম-রাম বলে একে অপরকে অভিবাদন করা হয়। শ্রী রামের নাম নেওয়ায় কারুর আপত্তি করা উচিত নয়।

বিজেপির আইটি সেলের প্রধান তথা রাজ্যের বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য ট্যুইট করে বলেন, বিশ্বভারতীর শতবর্ষ উদ্যানপনের অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্যকে অপমান করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজির জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বক্তৃতা না দিয়ে ফের একই কাজ করলেন তিনি। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তুঙ্গে উঠেছে তৃণমূল ও বিজেপির তরজা। আর এরই মধ্যে ভিক্টোরিয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে নয়া মাত্রা যোগ হয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।