কলকাতাঃ তিনদিন কেটে গিয়েছে। নেই জল, বিদ্যুৎ। এই অবস্থায় ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। রজেলার প্রত্যেকটি জেলায় চলছে বিক্ষোভ, অবরোধ। আর সেই অবরোধের মধ্যে মাঝ পথ থেকেই ফিরতে হল ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যেতেই পারলেন না কাকদ্বীপের প্রশাসনিক বৈঠকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

গত বুধবার বাংলায় আছড়ে পড়ে সুপার সাইক্লোন। লন্ডভন্ড চেহারা নেয় বাংলার একাংশের। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বাংলার উপকূল এলাকায়। এই পরিস্থিতিতে আকাশপথে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর কাকদ্বীপে এই নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে জেলার জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিকদের আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সেই মতো সবাই ছিলও।

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। কিন্তু স্বয়ং সাংসদওই উপস্থিত থাকতে পারলেন না মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকেই। মাঝপথ থেকে ফিরে গেলেন তিনি।

জল, বিদ্যুৎ সহ একাধিক দাবিতে শনিবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঠাকুরপুকুর, বেহালা সহ একাধিক এলাকা। চলে বিক্ষোভ, আন্দোলন। আর সেই বিক্ষোভেই আটকে পড়েন অভিষেক। পুলিশের তরফে বারবার আবেদন জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। প্রায় ঘন্টাখানেক এভাবে বিক্ষোভ চলতে থাকলে মাঝপথ থেকেই সাংসদকে ফিরতে হয়।

এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে জানান,”অভিষেক আসতে পারেনি। ওর গাড়ি আটকে গিয়েছিল বিক্ষোভে। রাস্তা অবরোধ হচ্ছিল, ও জানাল। আমিই ওকে বললাম ফিরে যেতে। তবে ওর এলাকায় কতটা কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানিয়েছে।” তবে এর আগে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, শান্ত থাকুন। বিক্ষোভ দেখালে আরও কাজ করতে সমস্যা হবে। তবে যেভাবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভাইপোকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন সাধারণ মানুষ তাতে স্পষ্ট যে ধঈর্জ্যের বাঁধ ভেঙেছে। প্রবল জৈষ্ঠের গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। এর উপর মিলছে না পানীয় জলও। তাতে আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।